আমাদের ফেসবুক পেজে জয়েন করুন http://www.facebook.com/vhalobashar.golpo

রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২

''মায়াবিনী''
By- Abandøned Warriør Jamesbøy

এখন শীতকাল। সকাল ৯.০০ টা,
বিরক্ত হয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। আব্বু বাজারে যাচ্ছে তাই দরজা বন্ধ করার জন্য ডাকছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে দরজা লাগিয়ে লেপের নিচে ঢুকে পরলাম।
মহানিদ্রা প্রায় চোখের কাছে এসে পরেছে এমন সময় বিকট শব্দে মোবাইলের রিং-টোন বেজে উঠল। মেজাজ খারাপ করে কল রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে বলা হল-
-হ্যালো।
-হেলতে পারব না। শুয়ে আছি। কি চাই ?
-আজকে হরতাল, ঘর থেকে বের হবে না। চুপচাপ ঘরে বসে থাকবে, ওকে ?
-কুইনাইন খাইসো ?
-মানে ?
-আমি রাতে কি বললাম ? আমি বললাম না যে আমি ১২টা পর্যন্ত ঘুমাব আজকে ? আমার ঘুমটা ভাঙ্গালে
কেন ?
-ওহ, সরি। ভুলে গিয়েছিলাম।
-হুম। ফোনটা রাখো।
-রাগ কোরো না প্লিজ।
-হুম। ফোনটা রাখো।
-সরি।
-ফোন রাখো।
-সরি বললাম তো!
-ঐ ছেমড়ি চুপ! তোর সরির থোড়াই কেয়ার করি আমি! ফোনটা রাখতে বলছি কানে যায় না ??? ফোন রাখ। আর একবারও ফোন দিবি না। পেত্নি কোথাকার।
বলে আমি নিজেই ফোন বন্ধ করে দিলাম ঘুম।
ঘুম ভাঙল এগারটায়।
উঠে যাবতীয় কাজকর্ম সেরে খেতে বসলাম। হঠাৎ সকালের ঘটনার কথা মনে পরল। সাথে সাথে মাথায় বাঁশ। হায় হায়! একি করলাম! ঐ মেয়ে নিশ্চয়ই রেগে ফায়ার হয়ে আছে। তাড়াতাড়ি হাত ধুয়ে কল করলাম ওকে। যান্ত্রিক এক রমণী শুনিয়ে দিল “আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটি এই মুহূর্তে বন্ধ আছে, কিছুক্ষণ পর আবার ডায়াল করুন, ধন্যবাদ!” কিন্তু আমারতো কিছুক্ষণ পরে ডায়াল করলে চলবে না। এর আগেই কিছু একটা করতে হবে। নাহলে আজ কেয়ামত হয়ে যাবে। দ্রুত একটা প্ল্যান বানিয়ে গ্যারেজ থেকে গাড়িটা নিয়ে বের হয়ে পরলাম। সামনে একটা ফুলের দোকান পেয়ে বিভিন্ন ফুলসহ বেশ কয়েক রঙের গোলাপ কিনলাম। পাশে একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঢুকে একটা বিগ সাইজ ডেইরি মিল্ক কিনলাম। এইবার চললাম মিশন ইম্পসিবলকে পসিবল করতে। বেশ কয়েক জায়গায় ভাঙ্গা গাড়ি দেখে মনে পরল যে আজ হরতাল। কিন্তু এখন সেদিকে নজর দিলে আমার চলবে না। হরতালের থোড়াই কেয়ার করে এগিয়ে চললাম। মায়ার বাসা কমলাপুরে। বনানী থেকে ওদের বাসায় পৌঁছুতে পাক্কা ৩ ঘণ্টা সময় চলে গেল। যাইহোক অবশেষে ওর বাসার নিচে এসে কলিংবেল টিপে দিলাম। এর আগে সুন্দর করে ফুলগুলো একটা বক্সে সাজিয়ে নিলাম। দরজা খুলে দিল আমার একমাত্র ক্লাস ফোর এ পড়ুয়া শালা মীর। মীর আমার পুরো নেওটা। তাই আমাকে দেখেই চিৎকার করে উঠতে যাচ্ছিল, তাড়াতাড়ি ওর মুখে হাত চাপা দিয়ে থামালাম। বললাম,
-যা জানতে চাইব ঠিক তাই বলবি, বাড়তি আওয়াজ করবি না। ঠিক আছে ?
মীর মাথা নাড়ল। আমি মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিলাম।
-বাসায় কে কে আছে ?
-আমি আর আপু।
-আনটি কই ?
-আম্মুতো তোমাদের বাসায় গেছে।
-গুড। এইনে তোর ঘুষ, এটা নিয়ে চুপচাপ সামনের রুমে বসে থাক। এই বলে ওর হাতে ডেইরি মিল্কটা ধরিয়ে দিলাম। আর সে খুশিতে নাচতে নাচতে সামনের রুমে চলে গেল। বলে রাখা ভাল, আমার আর মায়ার ৭ বছরের প্রেমের কথা দুজনের পরিবারই জানে এবং খুশির সাথে মেনেও নিয়েছেন। আমাদের বিয়ের দিনও ঠিক হয়ে গিয়েছে। সামনের সপ্তাহেই আমাদের বিয়ে। সেটা নিয়ে ২ বুড়ি সকাল বিকেল নানান রকমের পরিকল্পনা বানান, আজও তাই করছেন নিশ্চয়ই। আমি বাসায় কল করে আম্মুকে বলে দিলাম আনটিকে আজ বাসায় রেখে দিতে, কারন হরতালে বের হওয়া ঠিক হবে না। শুনতে পেলাম আমার শাশুড়ি আমার বিচক্ষণতার প্রশংসা করছেন। আমি মুচকি একটা হাসি দিলাম, কিছু বললাম না। আম্মু আমাকে সাবধানে থাকতে বলে ফোন রেখে দিলেন। তো এখন আমার পথ ক্লিয়ার। বিড়ালের মত নিঃশব্দে পা ফেলে মায়ার ঘরের দরজায় পৌঁছে গেলাম। আস্তে করে দরজা খুলে দেখি আমি যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই হচ্ছে। মায়া রাগ করে বারান্দায় বসে ইয়ারফোনে গান শুনছে। আমার দিকে পিঠ দিয়ে থাকায় আমাকে দেখতে পায়নি। ওকে রাগ করলে আরও অনেক বেশী মায়াবী লাগে। কিছুতেই নজর সরানো যায় না। তাই আমি মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে ওকে রাগিয়ে দেই। এখন আমি বহু কষ্টে নিজেকে সামলে ওর দিক থেকে নজর ফেরালাম। তারপর আমি চুপচাপ আমার কর্মে লেগে গেলাম। বাক্স থেকে ফুলগুলো বের করে ঘরটাকে সুন্দর করে সাজালাম। ২০ মিনিট পর নিজের কর্ম দেখে নিজেই গর্বিত। এইবার নিঃশব্দে ওর পিছনে দাঁড়িয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। আশা করছিলাম ও ভয় পাবে, কিন্তু ও একটুও ভয় পেল না। শুধু নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। এরপর আমার দিকে ফিরে মুখ ঝামটা দিয়ে বলল,
-এতো পিরিতি দেখাতে হবে না। সুন্দরী কোন মেয়েকে গিয়ে পিরিতি দেখাও। আমার মত পেত্নীকে না
দেখালেও চলবে।
-দেখ ১০টা না ৫টা না ১টা মাত্র বউ আমার, এরকম করলে চলে ? আমি ভীষণ সরি! প্লিজ মাফ করে
দাও। আর কখনও এইসব বলব না। প্রমিজ।
-সেটা নাহয় বাদই দিলাম। হরতালে দিয়ে বের হতে নিষেধ করলাম, এরপরও বের হলে কেন ?
-দেখ ১০টা না ৫টা না ১টা মাত্র বউ আমার, সে রাগ করলে আমি কিভাবে থাকি? তাই চলে এলাম।
তাছাড়া আনটিও আজ আমাদের বাসায় থেকে যাবেন তাই ভাবলাম তোমাকে একটু সঙ্গ দেই এসে।
-হুম। আর কোন কাজ নাই তার! আমাকে জ্বালাতে আসছে।
এইসব বলে গজগজ করতে করতে ও ঘরের ভিতর ঢুকল এবং ঘরের চেহারা দেখে পুরো থমকে গেল। এইবার ফিনিশিং টাচ দিয়ে ষোলকলা পূর্ণ করলাম। একটা কালো গোলাপ নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে ওর দিকে বাড়িয়ে ধরলাম। ও চিৎকার দিয়ে সব রাগ ভুলে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমিও হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। হঠাৎ কাবাবের হাড্ডি হয়ে হাজির হল মীর। আমাদের অবস্থা দেখে ফিক করে হেসে দিয়ে চলে গেল। আমি তাড়াতাড়ি মায়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম,
-তোমাদের বাসায় খাওয়ার কিছু আছে ? থাকলে দাও। আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে।
-হায় হায়! আমিতো এখনও রান্নাই করিনি। আসলে সব দোষ তোমার। আমার মেজাজ খারাপ না করালে
আমি কখন রান্না করে ফেলতাম।
-সরি বললাম তো।
-ঠিক আছে। তুমি বস, আমি কিচেনে গেলাম।

এরপর আমি আর মীর প্লে-স্টেশনে ডুয়েল খেলতে লাগলাম আর মায়া কিচেনে আমাদের জন্য রান্না করতে চলে গেল। খেলতে খেলতে মায়ার নামে হাজারটা নালিশ দিতে লাগলো মীর। আর এসব শুনে মায়া কিচেন থেকে ওর সাথে ঝগড়া করতে লাগলো। আর আমি ওদের খুনসুটি দেখে হাসতে লাগলাম। যতই ঝগড়া আর মারামারি করুক না কেন আসলে ওদের গলায় গলায় মিল। খেতে বসে ২ ভাইবোন মিলে খাওয়াতে খাওয়াতে আমার ওজন ২ কেজি বাড়িয়ে দিল। খাওয়ার পর ৩ জনে কিছুক্ষণ গল্প করলাম। তারপর মায়া মীরকে ঘুম পারিয়ে দিল। ঘুমন্ত মীরের দিকে তাকিয়ে ছিল মায়া। আর আমি তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকে। হঠাৎ দেখি ওর চোখে পানি। আমি কিছু না বলে মায়াকে ওর রুমে নিয়ে এলাম। দেখি তখনও ও নিরবে কাঁদছে। আমি জানতে চাইলাম,
-কি ব্যাপার মায়াবিনী ? কাঁদছো কেন ?
-মীরকে ছেড়ে থাকতে আমার ভীষণ কষ্ট হবে জাবির। আমি জানি ওরও অনেক কষ্ট হবে।
-আরিহ! আমি কি তোমাকে নিয়ে পরপারে যাচ্ছি নাকি ? আমিতো তোমাকে শুধু আমার বাসায় নিয়ে
যাচ্ছি। আর সেখানে মীর যখন খুশি যেতে পারবে। মন খারাপ করার দরকার কি ?
-হুম।
এরপরও ওর মন ভাল হচ্ছে না দেখে আমি উঠে গিয়ে সাউন্ডবক্সে গান ছাড়লাম এবং মায়াকে কাছে টেনে নিলাম। ও একটু লজ্জা পাচ্ছিল। তাই ওকে সহজ করার জন্য আমি বললাম,
-অবশ্য একটা কাজ করা যায়।
-কি ?
-আমি তোমাদের ঘর জামাই হয়ে যেতে পারি।(শয়তানি একটা হাসি দিলাম।)
-হাড্ডিগুলো সব ভেঙ্গে রেখে দেব। শয়তান! গ্ররররররর......
এবার আমি হা হা করে হেসে দিলাম। ওর মুখেও হাসি ফুটে উঠল। ধীরে ধীরে আমরা গানের তালে তালে নাচতে শুরু করলাম। অস্তগামী সূর্যের লাল আভা এসে মায়ার ঘরটিকে আলোছায়ার খেলায় ভাসিয়ে দিল।
বাতাসে ছিল ফুলের সৌরভ, চোখে ছিল অদম্য ভালবাসা, কানে ভাসছিল মুগ্ধ করার মত গান, ঐ মুহূর্তে মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি পুরুষ আমি।

হঠাৎ এই আবেগঘন মুহুর্তে আমাকে জড়িয়ে ধরল মায়া। বলল,
-কখনও আমাকে ছেড়ে যাবে নাতো জাবির ? আমাকে সবসময় এভাবেই ভালবাসবেতো ?
-বাসব মায়াবিনী, বাসব। কোথাও যাবনা তোমায় ছেড়ে।
অস্তগামী লাল সূর্যের আলোতে দেখলাম ওর চোখে পানি চকচক করছে। কিন্তু আমি মুছে দিলাম না। কারন এ কান্না সুখের কান্না, এ কান্না আনন্দের কান্না, এ কান্না সফলতার কান্না, এ কান্না ভালবাসার মানুষটিকে কাছে পাওয়ার কান্না। এরপরের ঘটনাগুলো খুব দ্রুত ঘটে গেল। আমাদের বিয়ে, বউ ভাত সহ আরও যত কাজকর্ম ছিল সব হয়ে গেল। এরপর আমি আমার মায়াবিনী মায়াকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে তুলি। মাঝেমধ্যে মীর আমাদের বাসায় এসে থাকে। সব মিলিয়ে আমরা একটি সুখী পরিবার। তবে আমাদের মধ্যেও ঝগড়া হয়, খুনসুটি হয়। তাই বলে একজনের প্রতি আরেকজনের ভালবাসা কমে না। কখনও কমবেও না। কারণ প্রকৃত ভালবাসা কখনও মুছে যায় না, হারিয়ে যায় না, কমে যায় না। আমরা ভালবাসি তাই, ভালবেসে যাই...

না বলা ভালোবাসা

না বলা ভালোবাসা

কি যে হল অপুটার সে মনে হয় নিজে ও জানে না !! সেই কবে থেকে হেসেই যাচ্ছেছোট বেলা থেকে এক সাথে বড় হয়ে যে তারাএকি স্কুল থেকে পাস করে একি কলেজে পড়ে৫ মিনিট বলে পরে ১৫ মিনিট হয়ে গেল কিন্তু এখন ও সে বলতে পারছে না শিমু কে তার মনের কথাকিভাবে বলবে বুঝতে পারছে নাশিমু অপুর দিকে থাকিয়ে আছেখুব মেজাজ খারাপ হচ্ছে তারমনে মনে বলছে গাধা একটা !! শিমু জানে অপু আসলে কি বলতে চাই! গত রাতে সে অপুর এসএমএস দেখে রীতিমতো হতবাকশিমু জানে তার পরিবার এসব মেনে নিবে নাকিন্তু সে ও তো অপু কে মন প্রান দিয়ে ভালোবাসেতখনই শিমু সিদ্ধান্ত নেই অপুকে না করে দিবেশিমু ক্লাস আছে বলে চলে যেতে যাচ্ছেএমন সময় অপু বলে ফেলল, আমার এসএমএস এর উত্তরটা ? শিমু না বলে দেয়আমার পক্ষে সম্ভব নাপরে কথা হবেএখন আসি বাসায় গিয়ে শিমু অনেকক্ষণ ভাবলকি করবে বুঝতে পারছে নাকত ৩০ মিনিট ধরে অপু অনবরত কল করেই যাচ্ছেশিমু ফোন ধরছে নাঅপু ও কম না, নাছোড়বান্দার মত ফোন দিয়েই আছেঅবশেষে শিমু ফোন ধরলশিমু অপুকে বুঝাতে লাগল কেন তার পক্ষে সম্পর্কে জড়ানো সম্ভব নাকিন্তু অপু শিমু কে ছাড়া কোন কিছু বুঝতে চাই নাশিমুর ও অনেক কষ্ট হচ্ছে অপুকে না বলতেশিমু অপুকে ফোন দিতে নিষেধ করেএইভাবে কেটে যায় কিছু দিন
এর কিছুদিন পর শিমুর ভাই সব জানতে পারেশিমুর পরিবারের সবাই তাকে ভুল বুঝতে থাকেবাবা-মা, ভাই-বোন সবাই তার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকেসামনে ফাইনাল এক্সাম, দিন দিন সে খুব ভেঙ্গে পরছে,কি করবে ঠিক বুঝতে পারছে নাকেয়ার তো দূরে থাক, সান্ত্বনা দেবার মত কেউ নাই তারসবাই থেকে ও নাইবড়ই একা হয়ে গেছে সেআজকাল অপুর কথা খুব মনে পড়ে শিমুরসব তার ভুলকেন সে অপুকে ফিরিয়ে দিলখুব মেজাজ খারাপ হয় নিজের উপর তারসব কিছু ভুলে সে তার পড়াশোনায় মন দেয়রাতদিন সে পড়াশোনা করতেই থাকেএক্সাম শুরু হয়ে গেলশিমু একদিন খেয়াল করল অপু প্রতিদিন শিমুর জন্য দাঁড়িয়ে থাকে তার জন্যশিমু দেখে ও না দেখার মত থাকেএর মধ্যে HSC এক্সাম শেষ হয়ে গেলশহর ছেড়ে ঢাকা চলে আসার পালা চলে আসছে ২ জনেরইএই কয়েকদিনের মধ্যে শিমুর অস্তিত্ব জুড়ে অপু বসবাস শুরু করে কিন্তু সে অপু কে তার মনের কথা বলতে পারে না পরিবারের কথা ভেবে
গন্তব্য আলাদা২জনে চলছে ২ জনের রাস্তায়শিমু প্রথম সুযোগে অ্যাডমিশন হয়ে গেল ইঞ্জিনিয়ারিং একিন্তু অপুর কিছু হল নাশিমুর ভার্সিটি লাইফ শুরু গেলএর মধ্যে শিমুর পরিচয় হয় আকাশ নামের এক ছেলের সাথেভার্সিটি লাইফে শিমুর বেষ্ট বন্ধুএভাবে কেটে যাই দুই দুইটি বছরআকাশের সাথে সময় কাটে এখন শিমুরআকাশ যে কখন তাকে ভালবেসে ফেলেছে বুঝতেই পারল নাশিমু আকাশকে বুঝাই যে সে তাকে বন্ধু ছাড়া অন্য কোন কিছু কোন দিন ভাবেই নি আর কোনদিন ভাবতেও পারবে নাআকাশ তাকে ভুল বুঝেএতদিনের বন্ধুর সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলেআকাশ ভার্সিটি তে শিমুর কে জরিয়ে নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলে বেড়াতে লাগলযা শিমুর অনেক কাছের মানুষ ও বিশ্বাস করতে লাগলশিমু দিনদিন একা হয়ে গেলশিমু মানসিক ভাবে অনেক ভেঙ্গে পড়েছেশিমুর অপুকে খুব মনে পড়ে এখনওর সান্নিধ্য পেতে ইচ্ছে করেএইসব ভেবে ভেবে সে অসুস্থ হয়ে পড়ল হসপিটালের সিটে সে শুয়ে শুয়ে শুধু কাঁদেআবুল তাবুল কথা বলতে থাকেঘুমের ওষুধ দিয়ে তাকে শান্ত করা হতবাবা-মা এসে তাকে বাড়ি নিয়ে যাইআস্তে আস্তে সে ঠিক হয়ে উঠতে থাকেহোস্টেলে ফিরে আসে সেনতুন করে সব কিছু শুরু করে সেএখন সে আগের মত চুপচাপ থাকে নাঅনেক কথা বলে সারাক্ষণ দুষ্টামি করে নিজেকে অনেক খুশি দেখাই সবার কাছেনিজেকে অনেক বেস্থ রাখতে চাইকিন্তু মনের গহীনে রাখা অপুর স্মৃতি ভুলতে পারে না কখনওসে শত বেস্ততার মাঝে ও অপুকে খুঁজে ফিরে বেড়ায়কিছুদিন পর শিমুর এক কলেজ বান্ধবী ইরার সাথে দেখা হয়তার কাছ থেকে জানতে পারে অপুর খুঁজঅপু আর সে মেয়েটি ঢাকা ভার্সিটি তে এক সাথে পড়াশোনা করেওর কাছ থেকে অপুর নাম্বারটা নিলামএরপর কয়েকদিন কেটে গেলশিমু কি জানি কি ভেবে একদিন অপুকে কল দিয়ে বসেঐ পাশ দিয়ে হ্যালো শুনার পর শিমু কোন কথা বলতে পারে না, কথা যেন আঁটকে গেছেশিমু তার পরিচয় দেয়অপু খুশিতে কি বলবে বুঝতে পারছে নাএতদিন পর শিমু কেন কল দিল তা অপু বুঝতে পারছে নাএই ভাবে কয়েকদিন তাদের মধ্যে কথা হয়অপু শিমু কে দেখা করতে বলেশিমু প্রথমে না না করলে ও পরে অপুর পীড়াপীড়িতে রাজি হয়ে যায়TSC তে এক পড়ন্ত বিকেলে ২ জনে দেখা করেকেউ কোন কথা বলছে নাচুপচাপ বসে আছে শিমু জড়তা ভেঙ্গে কথা শুরু করেঅপু তুমি তো সেই আগের অপুই রয়ে গেছকথা বলতে লজ্জা পাও২ জনে অনেক কথা বলবশিমু এখন সারাদিন অপুর কথা ভাবেবলতে চাই অপুকে মনের না বলা কথা গুলোবলতে চাই সেই ছোট বেলা থেকে সে অপুকে কতটা ভালবাসেতার পরিবারের জন্য সে আর অপুকে হারাতে চাই নাইরার কাছ থেকে জানতে পারে অপুর কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক নাইশিমু বুঝতে পারে এখনই তার মনের কথা বলার সময়এমন সময় অপু কল করেশিমু অপুর সাথে দেখা করতে চাইঅপু বলে আমি ও দেখা করতে বলার জন্য কল করেছিতোমার জন্য একটা surprise আছে শিমু মনে মনে ভাবে অপু কি আমাকে তার ভালোবাসার কথা আবার বলতে চাই... সে কি আমাকে এখন ও ভালোবাসেশিমু আজ অপুর সাথে দেখা করবেসে অপুর পছন্দের নীল শাড়ি পড়েছে , কপালে নীল টিপখোলা চুল, হাত ভর্তি সাদা চুড়িসব টুকু ভালোবাসা দিয়ে আজ অপুর জন্য সাজবে সেজীবনের ২২ টি বসন্ত একা কাটানোর পর আজ নিজেকে অপুর হাতে তুলে দিবেঅপুর হাত ধরে বাকি জীবনটা পার করে দিবে শিমু TSC তে আধা ঘণ্টা ধরে অপুর জন্য অপেক্ষা করছেঅপুটা যে কবে আসবেসময় সম্পর্কে এই ছেলেটার একটু ও খেয়াল থাকে নাআগে সম্পর্কটা হোক, তারপর ওকে আমি আমার মনের মত করে সাজাবোঅপুটা কেন যে আসছে না এতক্ষণএকটা মেয়েকে এতক্ষণ কেউ বসিয়ে রাখেআসুক তারপর মজা দেখাব এক বাচ্চা ছেলের কাছ থেকে একটা গোলাপ কিনল অপুর জন্যএকটুপর অপু আসল সাথে একটি মেয়েঅপুর হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছেশিমু কিছু বুঝে উঠার আগে অপু মেয়েটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিল অপুর বাগদত্তাকিছু দিন আগে বিয়ে ঠিক হয়েছেশিমু নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে নাসমস্ত আকাশটা যেন ভেঙ্গে পড়ল তার মাথার উপরবুক ফেটে কান্না আসছে তারনির্বাক দৃষ্টিতে তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছেকিন্তু সে কিছু বলতে পারছে নাঅপুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সে পাগলের মত ছুটে চলে হোস্টেলে দিকেযাওয়ার পথে গোলাপ টি ফেলে দেয়নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল নাকান্না ছাড়া তার কোন কিছু করার নাইখুব বড় ভুল করে ফেলেছে সেতার ভুলে শাস্তি তার পেতেই হবেকেন সে আর আগে বুঝল নালোক লজ্জা আর পরিবার পরিবার করে মরলকেন সে অপুকে দূরে সরিয়ে রাখলদিন দিন সে ধুঁকে ধুঁকে
মরছেএখন সে তার লাইফে আর কাউকে যাই নাবাবা মা অনেক চেষ্টা করেছে তাকে বিয়ে দিতে কিন্তু শিমু রাজি হয় নাঅপুর স্মৃতি নিয়ে বাকি জীবনটা কাটাতে চাইশিমু পরিবারের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে চাইসবায়কে নিষেধ করে দেয় যেন তাকে কেউ না খুঁজেশিমু কে আর খুঁজে পাওয়া গেল না
১০ বছর পর জানা গেল সে একটি অনাথ আশ্রমে থাকেবাচ্চা দের সেবা যত্ন লেখাপড়া করায়তার একটি ৭ বছরের বাচ্চা আছে, যাকে সে ট্রেন ষ্টেশনে কুঁড়িয়ে পেয়েছেবাকি জীবন টা এখানে কাটিয়ে দিতে চাই শিমুবুকের মাঝে একটি কষ্ট এখন ও বয়ে বেড়ায় সেসে অপুকে বলতে পারে নি তার না বলা ভালোবাসাএখন ও রাত হলে শিমু অপুর ছবি নিয়ে চুপচাপ বসে থাকেকখন যে চোখের কোণে জল চলে আসে বুঝতেই পারে না...
লিখেছেনঃ রোকসানা

শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২

ভাগ বসানো মেয়ে....

ভাগ বসানো মেয়ে....

আমি যে কলেজ টায় পড়তাম সেটা ছিল স্কুল এন্ড
কলেজ। সেদিন ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের
মহড়া চলছিল, মহড়া দেখতে আমার মত আর
অনেকে হাজির।
অডিটরিয়ামে কি একটা সেমিনার চলছিল তাই
বানিজ্য ভবনের ছোট্ট ক্লাসটাই মহড়া হচ্ছিল। আমি ভেবেছিলাম আমি ই শেষে আসলাম
পিছনে তাকিয়ে দেখি আমার পিঁছু পিঁছু আরও
একটি মেয়ে আসল, বসার জায়গা নেই, আমি ছোট্ট
একতা ধুলোমাখা বেঞ্চ পেলাম
ঝেঁড়েঝুঁড়ে বসে পড়লাম। মেয়েটি বসার কোন
জায়গা না পেয়ে দাড়িয়ে আছে, আমি কি বলব
পাশে বসতে? আবার কি না কি মনে করে?
ভাবতে লাগলাম্, অবশেষে বললাম- এই
যে আপনি চাইলে আমার পাশে বসতে পারেন,
আমার বলতে দেরী হল মেয়েটির বসতে দেরী হলনা, একটা ধন্যবাদ দিলনা।
মহড়া দেখার পাশাপাশি আঁড়চোঁখে আমাকে ও
দেখছিল, আমি যে দেখছিলামনা তা না,
তাইতো কয়েকবার চোঁখাচোঁখি হয়ে গেল। আমার
সিটে ভাগ বসিয়ে পুরো মহড়াটাই দেখল অথচ
আমার সাথে একটা কথাও বললনা। রিক্সার জন্য দাড়িয়ে আছি, এসময়
টা তে রিক্সা পাওয়া অনেক কষ্টকর।
অবশেষে একজন কে আসতে দেখে আমি ডাক
দিয়ে থামতে বললাম, পিছন থেকে আরও কে একজন
থামতে বলল, ফিরে দেখি সেই মেয়েটি। যেহেতু আমি আগে ডেকেছি তাই আমি পেলাম
রিক্সাটি, মেয়েটি হতাশ
ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আছে। হতাশ হবারই কথা এ
সময় টা তে রিক্সা পেতে বহু হিমশিম
খেতে হবে। আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে বসল,
- সজীব ভাইয়া, আমাকে কি নেয়া যাবে সাথে?
আমিতো থ বনে গেলাম তার মুখে আমার নাম শুনে,
- আপনি আমাকে চিনেন?
- না চেনার কি আছে? আপনাদের বাসার তিন
তলায় তো থাকি আমরা, নতুন এসেছি, আপনি চিনবেন কিভাবে সারাদিন তো বই
নিয়ে রুমেই পড়ে থাকেন্।
- আচ্ছা বসেন, আমি তাকে আমার পাশে বসার জন্য
ভাগ দিয়ে দিলাম। বাসায় পৌছলাম দুজনে। সুমির কথা বলছি, সে ক্লাস নাইনে পড়ে মাত্র,
আমাদের বাসায় এসেছে গত
মাসে আগে আশেপাশে কোথায় জানি থাকত। আমি ছোট বেলা থেকেই ঘরকুনো, আমার
রুমটা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মনে হয়,
বেশির ভাগ সময় আমার খাবার আম্মু
রুমে নিয়ে আসে। তাই নতুন ভাড়াটিয়া কে এল
কে গেল আমি জানিওনা। এরপর থেকে প্রায় আমার
সাথে আসা কিংবা যাওয়া হয়ে যেত কলেজে।
আমাদের বাসায় ও আসা বেড়ে গেছে সুমির,
আম্মুকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করত, আম্মু ও
ওর ভক্ত হয়ে গেছে দেখলাম। শীতকালে চিতই পিঠা টা আমার খুব প্রিয়, তবে ২
টার বেশি খেতে পারিনা। সেদিন আমার
রুমে আম্মু নাস্তা রেখে গেল, দেখি একটা মাত্র
পিঠা, মাকে বললাম একটা কেন? মা বললেন, ২
টাই রেখেছিলাম
একটা সুমি এসে খেয়ে ফেলেছে। দেখেন তো কেমন লাগে ? শেষ পর্যন্ত দেখি এই
মেয়ে আমার খাবারেও ভাগ বসাতে শুরু করেছে। সবচেয়ে অবাক হলাম যখন শুনলাম আমার
রুমে এসে আমার অনুপস্থিতে আমার ল্যাপটপ, বই
নিয়ে ঘাটাঘাটি করে.. এইচ,এস,সি পরীক্ষার পর আমার
সেনাবাহীনি তে চান্স মিলে গেল, চট্টগ্রামের
ভাটিয়ারি তে চলে গেলাম ট্রেনিং এ, মা আমার
একা হয়ে গেলেন, সুমি হয়ে উঠলো আম্মুর একমাত্র
বন্ধু, সহযোগী সব কিছু। ট্রেনিং এ থাকাকালীন একদিন ফোন করলাম,
সুমি ই ধরল ফোনটা। - আন্টির শরীর খারাপ, তাই
আমি রান্না টা করে দিচ্ছি, আংকেল
এখনো আসেনি বাসায়।-সুমি, আমার মায়ের
দিকে একটু খেয়াল রেখ,
- আবার আমাকে খোঁচা দিবেন না তো আপনার মা'র
ভাগ বসাচ্ছি বলে? - না, দিবনা। মা 'র সাথে কথা হলেই শুধু সুমি'র কথা বলে,
আমার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছেনা সুমি ঠিকই আমার
মা'র ভাগটাও নিয়ে নিয়েছে। এইতো বছর দুয়েক আগের কথা, আমার
পোষ্টিং তখন রাঙামাটি। হঠাৎ খবর আসল আম্মু
অসুস্থ। সি,ও থেকে ছুটি মিলার পর
আমি ছুটে চললাম বাড়ির দিকে, একদম
বাড়ি পর্যন্ত যাওয়া লাগেনি, আম্মু কে সদর
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছোট্ট একটা অপারেশন করা হয়েছে আমি জানতাম না,
আমাকে জানানো হয়নি। রক্তক্ষরণ হয়েছে আম্মুর্, রক্তও দেয়া হয়েছে।
সুমি নাকি আম্মুর জন্য রক্ত দিয়েছে। সুমির
প্রতি কেন জানি মাথা নত
হয়ে আসতে থাকে আমার। আমাদের কেউ না অথচ
সব কিছুতেই আছে। এতদিন ভাবতাম শুধু ভাগ
নিয়ে যাচ্ছে আজ দেখলাম মেয়েটি ভাগ দিতেও জানে। আমার আম্মুর শরীরের রক্তেও এখন তার
ভাগ আছে। আম্মুর অপারেশন পর একদম দূর্বল হয়ে পড়েছেন।
কাজকর্ম তো দূরে থাক তাকে দেখতেও একজন
লাগে, সুমির এইচ,এস,সি, পরীক্ষা শেষ, তাই তার
অবসর থাকায় সে ই দেখছে আম্মু কে। আমার বিয়েটা একদম জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে,
মেয়ে দেখা হচ্ছে, আম্মুর কাছে ঘুরেফিরে সুমির
কথায় শুনছি, শেষ পর্যন্ত- আমার সব কিছুতেই
ভাগ বসানো মেয়েটিকেই ঠিক করা হল আমার
জীবনের ভাগ বসানোর জন্য। বাসর রাতে সুমি কে বলা আমার প্রথম
কথা কি ছিল জানেন? 'মেয়ে, শেষ পর্যন্ত তুমি আমার জীবনেও ভাগ
বসালে'? তবে একটা জিনিসে তুমি না কেউ ই ভাগ
বসাতে পারবেনা, সেটা হচ্ছে তোমার
প্রতি আমার ভালবাসা। সুমি ঘোমটা টা একটু
সরিয়ে বলল- 'আমারো'। আমাদের দুজনের ভালবাসাবাসি চলতেই থাকে।
আমার আম্মু ও এতদিনের বন্ধু,
সহযোগী কে পুত্রবধু হিসেবে পেয়ে খুব খুশী। সুখ
দুঃখ ভাগাভাগি করেই আমাদের সংসার চলছে। জানেন? এ মুহূর্তে অনেক খূশি লাগছে আমার।
একটু আগে সুমি ফোন করে জানালো আমাদের
দুজনের ভালবাসায় ভাগ বসাতে একজন
অথিতি আসতে যাচ্ছে। রেশমা আন্টি, আম্মুর
খালাতো বোন, গাইনি ডাক্তার, একটু আগে আম্মু
আর সুমি তার চেম্বার থেকে আসল। এসেই আমাকে ফোন টা করল। পাঠক আপনারাও আসুন আমাদের সুখের
সংসারে ভাগ বসাতে, আমাদের নতুন অতিথির
নামটা ঠিক করে দিয়ে ।

আমার কোচিং কাল এবং উইপোকা সুন্দরীর গল্প

তখন এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ। কোচিং শুরু করবো ভর্তি পরীক্ষার জন্যে। ঠিক করতে পারছিলাম না কোথায় কোচিং করা যায়। যখন ঠিক করলামতখন কিছুটা দেরিও  হয়ে গেছে। এক ভাইয়া বেশ ভালো পড়ানতার কাছে যেয়ে বললামপড়তে চাই। সমস্যা হলকোন ব্যাচেই জায়গা নেই।  নতুন একটা ব্যাচ শুরু হয়েছেসেই ব্যাচের বেশিরভাগই মেয়ে। ভাইয়া কোন উপায়ন্তর না দেখে আমাকে সেই ব্যাচেই ঢুকিয়ে দিলেন।


সুবোধ বালকের মতো আমার কোচিং কাল শুরু হল। কয়েকদিনের মাঝেই টপাটপ কয়েকটা পরীক্ষায় বেশ ভালো করে ফেললাম। প্রতিদিন পরীক্ষায় সবার উপরে থাকার অদম্য আগ্রহ মাথা চারা দিয়ে কেন উঠেছিল জানিনা।  এখনো মাঝে মাঝে ভাবিকি আতেলটাই না ছিলাম!! আর এখন?? এখনকার কথা না বলাই ভালো!!!

অবশ্য রমণী প্রধান ব্যাচে থেকে তাদের চেয়ে বেশি পাওয়ার আনন্দ পুরাপুরি পৈশাচিক। আমার পড়াশুনার আগ্রহ তিনগুন বেড়ে গেলো। তার একভাগ ও যদি এখন থাকতো! ইশ,ভাবতেও দুঃখ লাগে!!

 যাই হোক, এখনকার কথা বলে লাভ নেই। বরং গল্পে ফেরত যাই। রমণীপ্রধান ব্যাচে থাকলে যা হয় আর কি, কাউকেই চোখে লাগেনা।  এমনসময় একদিন ব্যাচের এক সুন্দরী ললনা আমার কাছে এসে উপস্থিত হইলেন। কয়দিন ধরেই খেয়াল করছিলাম,রমণীর ভাবগতিক বিশেষ সুবিধার না!! ব্যাচের বাকি যে দুটো ছেলে ছিল, তারাও আমাকে বার বার খোঁচাত এই বলে যে উনি নাকি আমার প্রতি একটু অনুরক্ত। আমি তাই একটু দূরে দূরে চলতাম। কিন্তু যা ভয় করেছিলামতাই হল। 

সুন্দরী এসেই শুধালেন -
“এ্যাই শোনতুমি ইংলিশ গ্রামার কোন বই থেকে পড়?
 মনে মনে ভাবলাম বলে দেই যে-ইংলিশ গ্রামার ওরকম ভাবে কোন বই থেকে ঘটা করে পড়া হয়না। পরক্ষনেই ভাবলাম- এটা বলার পর যে প্রশ্নগুলি শুনতে হতে পারে, তা হল-
“তাহলে এতো বেশি নম্বর পাও কি করে!!!?”
“দৈনিক কয় ঘণ্টা লেখা পড়া করো?”
“না পড়ে গ্রামার পারলে তো তোমার বেসিক নিশ্চয়ই ভালো, এতো ভালো বেসিক কি করে হল?”
এরকম প্রশ্ন করে ফেললে আমি খুব বিপদে পড়ে যাবো। কারন এর কোনটারই উত্তর আমার জানা নেই। তাই প্রশ্নবাণের হাত থেকে বাচার জন্য ঠাস করে বলে দিলাম-

“এইতোমহিউদ্দিন-কাসেম এর বইটা থেকে গ্রামার পড়ি। কেন?
রমণী কইলেন-
“ওশোনআমার বইটা না উই পোকায় কেটেছে। তুমি কয়েকদিনের জন্যে তোমার বইটা আমাকে একটু ধার দিতে পারবে?

(আশ্বস্ত হলাম শুনেখালি বইই তো চাইছে,আর তো কিছুনা।) হ্যা হ্যা,অবশ্যই। দিতে পারবো।“

যদিও আমার এই বিনয়ী উত্তরই বোধহয় কাল হল।

“এ্যাই শোনতোমার ফোন নাম্বারটা দেওয়া যাবে?

সেরেছে!!! প্রথমে বইপরে ফোন নাম্বার!!! তার পরে আর কি চাইবে তা ভেবে মন শংকিত হল।

“ক্যানফোন নাম্বার দিয়ে কি হবে?”
“না মানেতুমি যদি ভুলে যাও আনতেতাই রাতে মনে করিয়ে দিতাম আর কি।

“না না !!! আমার ভুল হবে না  আমি ঠিক নিয়ে আসবো চিন্তা করোনা।  এই বলে ভুজুং ভাজুং দিয়ে সটকে পড়লাম।

বাসায় এসেই সবার আগে ব্যাগে বই ভরলাম। কোনোমতে ভুলে গেলে বিশাল দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে!!!দুর্ঘটনা ঘটাতে চাই না। এমন অবস্থা যে নাও বলতে পারিনাবলবে-“ভালো ছাত্রতাই দেমাগে তোমার মাটিতে পা পড়েনা।

কি যে অবস্থা!!! :s

পরের দিন রমণীর আগমনের সাথে সাথেই তার হাতে বইখানা ট্রান্সফার করলাম। দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করছিলাম, আবার কি না কি বলে বসে!

বই পেয়ে রমণী আহ্লাদে আটখানা হয়ে বলল- “আমি তোমাকে দু দিনের মাঝেই বইটা ফেরত দিবো চিন্তা করোনা তোমাকে অনেক থ্যাংকস ।

ইয়েতবে তুমি আমার ফোন নাম্বার টা রাখতে পারো। 

আবারো ফোন নাম্বার !!! আমি আকাশ থেকে পড়লাম – “তোমার ফোন নাম্বার রেখে কি হবে 
“না মানে এবার যদি আমি বইটা আনতে ভুলে যাই- রমণী বললেন,তাহলে তুমি মনে করিয়ে দিতে পারবা। 

“না নাআমার বই লাগবেনা ওটামাথা নাড়লাম আমি !!! আমার আরেকটা বই আছে।”(আসলে বই নাই দরকার হলে কিনে নিবো একটা তবু মাফ চাই)

পরপর দুবার ব্যর্থ হয়ে রমণী চরম অপমানিত বোধ করলেন বোধহয়।
রমণীর লাস্যময়ী দৃষ্টি ক্রমেই বিষদৃষ্টিতে রুপান্তরিত হইলো। আর কিছু না বলে নিজের বেঞ্চে ফেরত যেয়ে হাঁড়ির মতো মুখ করে বসে রইলো। 

এই ঘটনায় ব্যাচের বাকি রমণীরা যে বিশেষ পুলকিত হয়েছিলোতা পরে বেশ বুঝেছি। তাদের হাসাহাসির জন্য রমণী বেশ কয়েক সপ্তাহ অনুপস্থিত থাকলেন। পরে অবশ্য বই একটা কিনতেই হয়েছিলো আমার। :p

১৫ দিন পরে পরীক্ষা দিচ্ছি, এমন সময় বেঞ্চে ঠাস করে কোন একটা ভারী বস্তু অবতরন করলো। চেয়ে দেখি সুন্দরী হন হন করে হাটা দিয়েছেন। বইখানা তার মালিকের  কাছে আবারো ফেরত আসলো।
-তারপর? তারপরে কি হল?
তারপরে যা হওয়ার তাই হল। কেউ তো কারো জন্য সারাজীবন বসে থাকবেনা। কিছুদিন পরে আমার এক বন্ধুর সাথে উইপোকা সুন্দরীর প্রেম হয়ে গেলো।
-তারপর?
তারপর, তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো।
এটা কোন কষ্টের গল্প নয়। এখানে কোন বিচ্ছেদও নেই। যে আমার জীবনে আসেইনি কখনো তার সাথে বিচ্ছেদ কি করে হয়? ভালোবাসা কাকে বলে, তখনো জানতাম না। হয়তো তখনো শিখিনি কিভাবে ভালবাসতে হয়। হয়তো ভালবাসতে শিখিনি বলেই এই গল্পের শেষে কোন দুঃখ নেই। পরে অবশ্য জেনেছিলাম ভালোবাসা কাকে বলে। সেটা অন্য গল্প। আরেকদিন বলবো।
অনেক বছর পার হয়ে গেছে। আমার বন্ধুর প্রতি উইপোকা সুন্দরীর ভালোবাসা এতটুকুও কমেনি। আমার বন্ধুও তার প্রেয়সীকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসে। আমি দুর থেকে আমার বন্ধু আর উইপোকা সুন্দরীকে দেখি।
 তাদের ভালোবাসা দেখতে আমার বড় ভালো লাগে।

একটি দূর্ঘটনা ও ভালোবাসা"

শায়লার পাশে চুপচাপ বসে আছে শান্ত। শান্ত মোটেও কোন শান্ত মানুষ নয়! তবে মাঝে মাঝে যখন শান্ত থাকে তখন তার দিকে শুধু তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছে করে শায়লার! তবে এই সুযোগ সে খুবই কম পায়। কেননা, এই শান্ত যতক্ষণ না বাসায় থাকে ততক্ষণ খুবই অশান্ত থাকে! শান্ত ও শায়লা দুজনই এখন গাড়ীতে, গন্তব্য হাসপাতাল!

প্রায় দেড় বছর আগের এক কুয়াশা ঢাকা সন্ধ্যায় শান্ত ও শায়লার বিয়ে হয়! এটা কোন লাভ ম্যারেজ ছিল না, উভয় পক্ষের মুরুব্বীদের ইচ্ছায় ঘটে যাওয়া অ্যারেন্জ ম্যারেজ। বিয়ের আগে তারা দুজন দুজনকে চিনতও না! বিয়ের পরই শায়লা ও শান্ত একে অন্যের পাশে আসল! শায়লা সবসময়ই ভাবত, সে যেন এক স্বপ্নের মাঝে আছে! দেড়টা বছরে সেশান্ত কে অনেক অনেক ভালোবেসেছে, কাছে এসেছে, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেছে! আর এখন শায়লা তার শরীরে অনুভব করছে নতুন প্রাণের অস্তিত্ব, দেহে বয়ে বেড়াচ্ছে তার নিজের ও শান্তর মিলিত সত্ত্বাকে!

হাসপাতাল থেকে ফিরছে দুজন, ডাক্তার জানিয়েছে তাদের মেয়ে হবে! খুশীতে আত্মহারা শায়লা বুঝতে পারছে না সে যে কী করবে! শুধু শক্ত করে শান্তর হাতটা চেপে ধরে রাখছে! প্রাণ ভরে দেখছে শান্তর দুষ্টামী মাখা হাসিটা! আহ্, কী সুখ!

হাসপাতালে শুয়ে আছে শায়লা! এই মাত্র সে তার কন্যাটির জন্ম দিল! মেয়েটি কী ফুটফুটে! কিন্তু এ কী! মেয়ের মুখ দেখে সবাই হাসছে না কেন ?শান্তরও দেখি মুখ কালো! কী হল?

কিছুক্ষনের মাঝেই সবকিছু পরিষ্কার হল শায়লার কাছে। তার কলিজার টুকরা, চোখের মণি, তার মেয়েটি তার কথা বলার শক্তিটা কোথায় যেন হারিয়ে রেখে এসেছে! তাতে কী হয়েছে? শায়লা ভাবে, সবারই কথা বলতে হবে এমন কী কোন কথা আছে !?শায়লা এভাবেই হিসাব মিলতে থাকে, কিন্তু হিসাব মিলাতে ব্যর্থ হয় শান্ত।

শায়লার মেয়ে স্মরণের আজ তৃতীয় জন্মদিন! স্মরণ কথা বলতে না পারলেও সবই বুঝতে পারে। সে বুঝতে পারে, সে আলাদা। সবাই কত কথা বলে, কিন্তু সে পারেনা! সবাই তাদের বাবা মায়ের সাথে কত্তো আদরে ভালোবাসায় থাকে। কিন্তু স্মরণ জানে, তার মা ছাড়া আর কেউ তাকে ভালোবাসেনা। ছোট্ট স্মরণ এটাউ বুঝতে পারে যে, সে অন্যরকম বলেই তার বাবা তাকে নিয়ে তার মার সাথে থাকেনা। স্মরণ অনেক বার তার বাবার ছবি দেখেছে। ছবিটা দেখলেই তার মনে হয় ঝাঁপ দিয়ে সে তার বাবার বুকের ওপর পড়ে! কিন্তু সামনা সামনি কখনো দেখলে সে আর এমন চিন্তা করতে পারে না!বরং ভয় পেতে থাকে!

শান্তর হঠাৎ ঐ পরিবর্তন শায়লার আজও অবাক লাগে! এই মানুষটাকে সে এত্তো ভালোবেসেছিল! এই মানুষটা তাকে এত্তো ভালোবেসেছি! যে কি না নিজের সন্তানের জন্মের এক বছর পর শায়লাকে উপহার দেয় একটি ডিভোর্স লেটার! স্মরণের জন্মের পর এটিই ছিল শয়লার জন্য তার প্রথম উপহার! মাথার উপর ভাঙা আকাশ, চোখের উপর ভাঙা স্বপ্ন আর বুকের মাঝে স্মরণকে জড়িয়ে রেখেই সে সাইন করে দিয়েছিল।

স্মরণের জন্মের পর শান্ত আবার বিয়ে করে মুক্তিকে। সে আজ প্রায় সাত বছরের ঘটনা। বিয়ের দুই বছর পর মুক্তি জানল সে কখনো মা হতে পারবে না। শান্তও জানল, তার দ্বিতীয় স্ত্রীও তাকে `বাবা' ডাকটি শুনাতে পারব না। ঐদিনই শান্তর আকাশ ভাঙতে থকে।তার নে পরতে থাকে স্মরণর কথা। কিন্তু সে ফিরে যেতে পারে না।এইবার তাকে বাধা দেয় তার বিবেক।

কাফনে মোড়ানো মুক্তির দেহটির পাশে বসে আছে শান্ত। মুক্তি বুঝতো, শান্ত তার সাথে যে ব্যবহারটা করে তা তো তার নিজেরই দোষে। সেই তো ব্যর্থ হল শান্তকে `বাবা' ডাক শুনাতে। দীর্ঘ সাতটি বছর পর তাই আজ মুক্তি চিরতরে মুক্তি দিল শান্তকে, মুক্তি পেল স নিজেও।

মুক্তির মৃত্যুর ১৪ দিন পরঃ স্কুল থেকে ফেরার পথে এক্সিডেন্ট করেছে স্মরণ। সে হাসপাতালে। ডাক্তার বলেছে, ভয় নেই, ভালো আছে স্মরণ। তবু শয়লার চিন্তা কমে না।৭টি বছর সে একলাটি পার করেছে স্মরণের সাথে।অতীত মনে করে শায়লা-স্মরণের জন্ম, শান্তর চলে যাওয়া, হঠাৎই তার মন হয়, আজ যদি শান্ত থাকত!দুহাত মাথা চপে ধরে সে । এমন সময় তার পিঠ স্পর্শ করেকটি হাত- শান্ত।শান্ত ক্ষমাপ্রার্থী, তার মেয়ের কাছে, স্ত্রীর কাছে।

স্মরণ সুস্থ হয়ে ফিরল বাসায়! জীবনে প্রথমবারের মত সে দেখতে শুরু করল মা বাবা তাকে একসাথে ভালোবাসছে! সত্যিকার ভালোবাসা!

লিখেছেন-Porir Mey Meghoboti