আমাদের ফেসবুক পেজে জয়েন করুন http://www.facebook.com/vhalobashar.golpo

রবিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১২

গল্প-৬

"নীরব ভালোবাসা" --- A Silent Love Story....
এটা একটা বাংলাদেশের কোন এক মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি ছেলে ও একটি মেয়ের নীরব প্রেমের গল্প। মেয়ের পরিবার চিরাচরিত নিয়মে ছেলেটাকে গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানায়। স্বাভাবিকভাবেই মেয়ের পরিবার মেয়েটাকে বুঝানোর চেষ্টা করে যে ছেলেটার খুবএকটা ব্রাইট ফিউচার নেই, তার সাথে সম্পর্ক রাখাটা বোকামি ছাড়া আর কিছু না।
পরিবারের চাপে পড়ে একদিন মেয়েটা ছেলেটাকে বলে,"আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা কতটা গভীর? তুমি একটা কিছু অন্তত করো। তাছাড়া আমাদের সম্পর্ক কেউ মেনে নিবে না।" ছেলেটাকোন উত্তর খুঁজে পায় না। সে চুপ করে থাকে। মেয়েটা রাগ হয়ে চলে যায়। তারপরেও স্বপ্নবিলাসী ছেলেটা তাদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে, কিছুটা অন্জন'দা এর গানের মতো, "সাদা-কালো এই জন্জালে ভরা মিথ্যে কথার শহরে, তোমার-আমার লাল-নীল সংসার।"
ছেলেটা একদিন হায়ার-স্টাডিসের জন্য বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যাওয়ার আগ-মুহূর্তে সে মেয়েটাকে বলে, "আমি হয়তো কথায় খুব একটা পারদর্শী না, কিন্তু আমি জানি যে আমিতোমাকে অনেক ভালোবাসি। তারপরেও তুমি যদি চাও, তোমার-আমার বিয়ের কথা আমি তোমার পরিবারকে একবার বলে দেখতে পারি। তুমি কি আমার সাথে সারাজীবন কাটাতে রাজি আছ?"
মেয়েটা ছেলের দৃঢ়-সংকল্প দেখে রাজি হয়। ছেলেটা মেয়ের পরিবারকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করে ফেলে। তারপর তাদের এনগেজমেন্ট হয়ে যায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশে ফিরলে তারপর তাদের বিয়ে হবে। এরপর ছেলেটা চলে যায় দেশের বাইরে।
মেয়েটা একটা অফিসে জব করা শুরু করে দেয়। এদিকে ছেলেটাও তার রিসার্চ-ওয়ার্ক নিয়ে দেশের বাইরে ব্যস্ত। তারপরেও তারা শত ব্যস্ততার মাঝেও ফোন আর ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের ভালোবাসার অনুভূতি যতটা সম্ভব আদান-প্রদান করে।
একদিন মেয়েটা অফিসে যাওয়ার পথে রোড-অ্যাক্সিডেন্ট করে। সেন্স ফিরে সে দেখতে পায় যে সে হাসপাতালে ভর্তি এবংবুঝতে পারে যে সে মারাত্মকভাবে আহত। তার বাবা-মাকে বিছানার পাশে দেখতে পায় সে। তার মা কান্না করতেছে তা বুঝতে পেরে যখন মেয়েটা কথা বলতে যায় তখন সে বুঝতে পারে যে তার বাকশক্তি লোপ পেয়েছে। ডাক্তারের ভাষ্যমতে মেয়েটা তার ব্রেনে আঘাত পাওয়ায় আজীবনের মতো বোবা হয়ে গেছে।
একসময় মেয়েটা খানিকটা সুস্থ হয়ে বাসায় চলে আসে। এদিকে ছেলেটা তাকে বার বারফোন করতে থাকে কিন্তু মেয়েটা বোবা বলে তার করার কিছুই থাকে না। মেয়েটা একদিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। সে তার কথোপোকথন-হীন এই জীবনের সাথে ছেলেটাকে আর জড়াতে চায় না।
তার ফলশ্রুতিতে সে একদিন একটা মিথ্যা চিঠিতে লেখে যে সে আর ছেলেটার জন্য অপেক্ষা করতে পারবে না। তারপর মেয়েটা চিঠির সাথে তার এনজেজমেন্ট রিং ছেলেটার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। ছেলেটা মেয়েটাকে হাজার-হাজার ই-মেইল করে কিন্তু তার কোন রিপ্লাই সেপায় না। ছেলেটা শত-শত বার ফোন করে কিন্তু মেয়েটার ফোন রিসিভ না করে নীরবে কান্না করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
একদিন মেয়েটার পরিবার বাসা বদল করে অন্য কোন এলাকায় নতুন কোন একটা পরিবেশে যাওয়ার সিদ্ধান্তনেয় যাতে করে মেয়েটা কিছুটা হলেও এই দুঃস্মৃতী ভূলে যায় এবং সুখে থাকে।
নতুন পরিবেশে মেয়েটা"সাইন-ল্যাংগুয়েজ" শেখে এবং নতুন জীবন শুরু করে। বছর দুয়েক পর একদিন মেয়েটার এক বান্ধবী এখানে চলে আসে এবং মেয়েটাকে বলে যে ছেলেটা দেশে ব্যাক করেছে। মেয়েটা তার বান্ধবীকে রিকুয়েস্ট করে যাতে ছেলেটা কোনভাবেই যেন তার এই অবস্থার কথা জানতে না পারে। তারপর কয়েকদিন পরমেয়েটার বান্ধবী চলে যায়।
আরো এক বছর পর আবার একদিন মেয়েটার বান্ধবী মেয়েটার কাছে একটা ইনভাইটেশন কার্ড নিয়ে চলে আসে। মেয়েটা কার্ড খুলে দেখতে পায় যে এটা ছেলেটার বিয়ের ইনভাইটেশন কার্ড। মেয়েটা অবাক হয়ে যায় যখন পাত্রীর জায়গায় তার নিজের নাম দেখতে পায়। মেয়েটা যখন তারবান্ধবীর কাছে এ সম্পর্কে কিছু জানতে চাইবে তখন সে দেখতে পায় যে ছেলেটা তার সামনে দাঁড়িয়ে। ছেলেটা তখন "সাইন ল্যাংগুয়েজ" ব্যবহার করে মেয়েটাকে বলে,"I've spent a year's time to learn sign language. Just to let you know that I've not forgotten our promise. Let me have the chance to be your voice. I Love You." এই বলে ছেলেটা আবার সেই এনগেজমেন্ট রিং মেয়েটাকে পড়িয়ে দেয়। কয়েক বছর পর মেয়েটা আবার হেসে উঠে। এ যেন এক নীরব ভালোবাসার নীরব হাসি। ভাল লাগলে লাইকে ক্লিক করতে ভুলবেন না ।

গল্প-৫

বসুন্ধরায় সিনেপ্লেক্সে একটা মুভি দেখবো বলে বসুন্ধরায় ঢুকলাম।আজ অন্যদিনের চেয়ে অনেক ফাকা।ক্যপসুলে শুধু আমি একা,উঠবে এমন সময় হঠাত্‍ কে লিফটাকে আবার স্টপ করালো,দরজা খুলে গেলো আর ভিতরে ঢুকলো আমারই বয়সী এক রূপবতী।আমি সাধারণত মেয়েদের দিকে তাকাই না,আমার মা আমাকে আর বাবাকে রেখে আরেক পুরুষের সাথে পালিয়ে যাওয়ায় ছোট থেকেই মেয়ে জাতিকে ঘৃনা করি,তাই আজো ব্যতিক্রম হলো না অর্থাত্‍ আর তাকালাম না।
টিকিট কেটে নির্দ্দিষ্ট আসনে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম,আজকের মুভি লাল টিপ।পিছনে চোখ পড়তেই দেখলাম লিফটের মেয়েটি।১৪৫ ডিগ্রি কৌনিক দূরুত্বে চোখটাকে ঘুরিয়ে নিলাম।
মুভিটা চরম লাগছে।
.
.
টিএসসি তে ভার্সিটির বন্ধুদের সাথে বসে চা খাচ্ছি।পাশেই একটা রিক্সা এসে দাড়ালো,আর রিক্সা থেকে নামলো সেই লিফটের রূপবতী।নেমেই আমার কাছে এসে বলল "১০ টাকা ভাংতি হবে"।
আমি অবাক হলাম তবুও পকেট হাতড়ে একটা ১০ টাকা বের করে তার হাতে ধরিয়ে দিলাম।
মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল,"আরেকদিন আপনার টাকাটা দিয়ে দিবো আজ ভাংতি ছিলো না "
আমি মুখকে অন্যদিকে ফিরিয়ে বললাম,"টাকা দিতে হবে না"
"আমি ভিক্ষুক নই যে আপনার থেকে ভিক্ষা নিবো",এই বলে মেয়ে চলে গেলো।
"কিরে মামা এসব কি দেখতেছি?মেডিকেলের মাইয়্যা আসি তোমার থেকে টাকা খুজে,কাহিনী কি?"অর্নব অবাক চোখে তাকিয়ে বলল।
সবাই একসঙ্গে প্রশ্নদিপ্ত চোখে তাকিয়ে রইলো।

"আরে না ঐদিন মেয়েটা আর আমি বসুন্ধরায় ক্যাপসুলে উঠছিলাম ,তখন মনে হয় খেয়াল করছে।আর মেয়েটা মেডিকেলে পড়ে এটা তোরে কে কইলো ?"
"মেয়েটা আমার কাজিনের বান্ধবী"
"তাইলে তো তোকে চিনার কথা, তোর থেকে টাকা চাইলো না কেন?"
"মেয়েই ভালো জানে"
.
.
.
.
.
.
বাইক নিয়ে বেশ জোরেই টানছিলাম ,হঠাত্‍ রাস্তার মধ্যে একটা জটলা দেখলাম,চরমভাবে ব্রেক কশলাম।বাইক রেখে সামনে গিয়ে জানতে পারলাম একটা মেয়ের রিক্সাকে বাস বলতে গেলে পিশে দিয়েছে।ভিড় ঠেলে দেখি আরে এতো সেই রূপবতী, মেয়ের হাত পা ভেঙ্গে গেছে প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে।আমি তত্‍ক্ষনাত সিদ্ধান্ত নিলাম আমিই ওর ভার নিবো।কোন গাড়ি পাচ্ছিলাম না তাই কষ্ট আমার বাইকে করেই ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলাম ।ডাক্তাররা সবাই ওকে চিনে তাই আমার তেমন কষ্ট হয়নি,তারা বলেন,অবস্থা বেশি খারাপ।!CU তে রাখা হয়।তখনি ৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়।আমার ক্রেডিট কার্ড টাকা আছে আর ৪ লাখ ১৫ হাজার।বাবা এখন ফ্রান্সে থাকার কথা আসবে আরো ১সপ্তাহ পর।তবুও ফোন দিলাম "বাবা তুমি কোথায় ?"
"এই তো ১ ঘন্টা আগে এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করলাম।"
"তার মানে বাংলাদেশে ?"
"হ্যাঁ"
"বাবা তুমি এখনি ঢাকা মেডিকেলে আসো।"
"কেনো বাবা তোমার কোন সমস্যা হয়েছে ?"
"না বাবা তুমি আসো তারপর বলছি।"
"ঠিক আছে।"
যাক বাচা গেছে বাবা যখন আসবে তখন আর চিন্তা নেই।
এরই মধ্যে মেয়েটার কয়েকজন বন্ধু এসে হাজির ।তখনি ১ম মেয়েটার নাম শুনলাম,মেয়েটার নাম রিয়া।রিয়ার বন্ধুরা বান্ধবীরা আমার প্রতি বেশ কৃতজ্ঞতা দেখালো।ততক্ষনে বাবা হাজির এবং প্রথমেই বললঃ "ইমরান বাবা তোর কিছু হয়েছে?"
বাবাকে সব খুলে বললাম।সব শুনে বাবা প্রথমে টাকা পে করলো।এদিকে রিয়ার বাবা মা থাকে চট্টগ্রাম।ফ্লাইটে তাড়াতাড়ি আসার কথা কিন্তু বাংলাদেশ বিমান লেট করলো তাই আধ ঘন্টার যায়গায় ৩ ঘন্টা লেগে গেলো।আমি তাদের ওখানে বাসায় এলাম।সেদিন কেনজানি রিয়ার প্রতি বেশ ভালোবাসা জন্মে,জানি না এটা দয়া নাকি প্রেম।
সুস্থ হতে হতে ৩ মাস লেগে যায়।রিয়ার পরিবারের সাথে এই ৩মাসে সম্পর্ক বেশ ভালো হয়ে যায়।আমি তাদেরকে অনেক বলেছি আমার বাসায় থাকার জন্য কিন্তু তারা থাকেনি,৩ মাস থাকার জন্য তারা একটা ফ্ল্যাটই কিনে ফেলে।তারা আমাকে চট্টগ্রাম যাওয়ার আহ্বান জানায় কিন্তু কয়দিন পর ইয়ারলি এক্সাম,তবে তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করতে হলো পরীক্ষার পর যাবো।
.
১মাস পর পরীক্ষা শেষ হলো।আঙ্কেল ফোন করলো অর্থাত্‍ রিয়ার বাবা,তিনি বলেন আগামী শুক্রবার তাঁর বড় মেয়ের বিয়ে অর্থাত্‍ রিয়ার বড় বোনের বিয়ে,আমাকে বুধবারের মধ্যে যেতেই হবে,আমিও সায় দিলাম যাবো।বিকালে এয়ারপোর্টে গিয়ে বুধবারের টিকেট বুক করি।এই ১ম চট্টগ্রাম যাবো।
.
.
.
.
.
.
ল্যান্ড করলাম।বেরিয়ে এসে দেখলাম আমার নামের প্ল্যাকার্ড নিয়ে একজন দাডিয়ে আছে গিয়ে বললাম আমিই ইমরান।লোকটি বললঃ"আমি ড্রাইবার ,নাম মোকলেস, স্যার আপামনির বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত তাই আসতে পারেন নি ।"
"সমস্যা নেই তুমি চলো"
চট্টগ্রাম জায়গাটা খুব সুন্দর মনে হচ্ছে ,তেমন একটা জ্যাম নেই।" আচ্ছা মোখলেখ বাসা কোথায়? অর্থাত জায়গার নাম ?"
"খুলশি"
.
.
.
বাড়িটা ডুপ্লেক্স।বাড়িতে ঢুকার সাথে সাথে সবাই যেভাবে আপ্যায়ন করতে লাগলো মনে হয় যেন আমি তাদের মেয়ে জামাই।তারা বারবার বলছে আমার কারনেই রিয়া জীবন ফিরে পেয়েছে,আমি কি বলবো বুঝতেছিলাম না।কোনমতে বললাম আমাকে একটু ফ্রেশ হবে।সাথে সাথে আমাকে আমার রুমে নিয়ে গেলো।হাফ ছেড়ে বাচলাম,গোসল করে টেবটা নিয়ে যা একটু বসলাম সাথে সাথে দরজায় নক।

খুলে দেখলাম রিয়া।আজ একটা সবুজ শাড়ি পড়েছে চোখ চশমা।এ যুগের মেয়েরা শাড়িও পরে ?অবাক লাগলো।"ব্যস্ত ? ভিতরে আসতে পারি ?"
"অবশ্যই অবশ্যই ভিতরে আসুন"
ঢুকেই আমার হাতে একটা দশ টাকার নোট গুজে দিলো
"দশ টাকা ?কেন ?"
"ভুলে গেলেন? টিএসসির মোড়ে আপনার থেকে দশ টাকা নিয়েছিলাম"
"ও ! ভুলে গিয়েছিলাম"
"ভুলে গেলে বুয়েটে কেমনে পড়েন ?"
"জানি না"..........
...কথা বলছিলাম অনেকক্ষন এমনসময় দরজার ওপাশ কে জানি চট্টগ্রামের আন্চলিক ভাষা বলল,"রিয়া আফা তুই হডে গিয়্যো ?,আম্মা জ্বি তোয়ারে তোআর"
"আসছি তুই যা"
"আচ্ছা রাতে দেখা হবে,রাতে একটা ক্যাম্পফায়ারের পার্টি হবে এসো"
আমি হঠাত্‍ লক্ষ করলাম রিয়া আপনি থেকে তুমিতে নেমে গেছে।এটাতো ঠিক না তুমি হলেই প্রেম আর প্রেম মানেই বিয়ে আর বিয়ে মানেই বাবার মতো অবস্থা,অসম্ভব অসম্ভব !ঐ মহিলার অর্থাত্‍ আমার মার কথা মনে হতেই মাথা প্রচন্ড গরম হয়ে যায়।বাবাকে ফোন করলাম ,"বাবা তুমি কি এখন আমার সাথে একটু ভিডিও চ্যাট করতে পারবে ?"
"কেনো যা ফোনেই বললে হয় না ?"
"না হয় না,তুমি আসবা নাকি বলো,"
"আসছি"
.
.
.
"বল কি বলবি?"
"তুমি কি মা কে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলে ?"
"হঠাত্‍ এই প্রশ্ন কেনো ?"
"বাবা তুমি বলো ,"
"আমি পছন্দ করতাম কিন্তু তোর মা পছন্দ করতো আরেকজনকে ,তোর দাদা তোর নানা দুজন ছিলেন ছোটবেলার বন্ধু তাই বিয়েটা হয়ে যায় ,বাকিটাতো তুই জানিস"
"বাবা আচ্ছা কাল কথা হবে"
"কেন"
"আজ ভালো লাগছে না"
"অসুস্থ ?"
"না"
"ও বুঝছি,বয়সটা আমিও পার করেছি ,আচ্ছা পরে কথা হবে এখন একজন ক্লায়েন্ট আসবে"
"বাই"
বাবার কথায় হোক আর আমার বিবেকের মাধ্যমেই হোক মেয়েদের সম্পর্কে আমার ধারনা পাল্টে যায় মনে হতে থাকে মেয়ে জাতিটা খারাপ না।
.
.
.
.
রাতে ক্যাম্প ফায়ারের চারদিকে সবাই বসে মজা করছিলো এমন সময় ছাদ থেকে আঙ্কেল খবর পাঠালেন যাতে আমি উনার কাছে যাই,
"ডাকছিলেন ?"
"আরে ইমরান আসো আসো,শুনলাম বিকালে এসেছো ,আসতে কোন সমস্যা হয়েছিলো ?"
"না,কোন সমস্যাই হয়নি ,ঠিক সময়ে ফ্লাই করেছে।"
"তাইলতো ভালোই,আমাদের চট্টগ্রাম আমাদের ঘর কেমন লাগছে?"
"খুব ভালো ,বেশ ফ্রেন্ডলি সবাই।"
"আমি আসলে ব্যস্ত ছিলাম বলে এয়ারপোর্ট যেতে পারিনি এজন্য দুঃখিত"
"না ঠিক আছে,"
"ড্রিংস করবে?"
"সরি আঙ্কেল ওরকম অভ্যাস নেই"
"মজা করেছি আমরাও অভ্যাস নেই,আচ্ছা তুমি নিচে যাও মজা করো।"
.
.
.
আজ বিয়ে শেষ হয়ে গেলো ।আমি ব্যাগ গোছাচ্ছি।"আসতে পারি?"
রিয়ার আওয়াজ
"আসো আসো"
ভেতরে এসে বসলো।আজো একটা শাড়ি পরেছে কিন্তু চোখে চশমা নেই।
তুমি ড্রাইভিং পারো ?
হ্যা পারি কেনো?
চলো
কোথায় ?
লং ড্রাইভে
আমার কার আর বাইক ঢাকায়
তোমার গাড়ি নিতে কে বলেছে আমাদের একটা গাড়ি নিলেই তো হয়
না আজ ইচ্ছা করছে না
আচ্ছা তুমি বসে থেকো আমি চালাবো
মেয়েতো দেখি নাছোড়বান্দা,অবশেষে রাজি হয়ে গেলাম।আঙ্কেলরা মনে হয় আমার এই সিদ্ধান্তের জন্য বসে ছিলেন,রিয়া গিয়ে বলতেই ট্রেতে করে চাবি পৌছে দিয়ে গিয়ে।
.
.
.
রাস্তা চিনি না তবুও চালিয়ে চলছি।পাশে রিয়া ,ওকে খুব সুন্দর লাগছে।আজ মনে হচ্ছে রিয়াকে বিয়ে করলে কেমন হয়,আমি মনে হয় ওকে ভালোবেসে ফেলেছি।সাথে সাথে প্রপোজ করার সিদ্ধান্ত নিলাম ।রাস্তা ফাকা দেখে গাড়ি আর থামালাম না,ওতেই বলে দিলাম "! LOVE U,"
ওর REPLY,"! LOVE U 2"
হঠাত্‍
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
বাবা ফোন দিলো,
"হ্যা বাবা কি খবর?"
"এই তো ভালোই তুই কেমন আছিস?"
"বাবা তোমার সাথে একটা কথা বলবো ভিডিও চ্যাটে আসো।"
"আমি জানি তুই কি বলবি,আমি রিয়ার বাবার সাথে কথা কথা বলে ঠিক করেছি তোদের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষার পর বিয়ে হবে।ভালো মতো ড্রাইভ কর।বেষ্ট অফ লাক।"
আমি অবিশ্বাস্য চোখে রিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
5 yearz later,
ফ্রান্সে হানিমুন বেশ ভালোই লাগছে।সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো আইফেল টাওয়ারের নিচে সবার সামনে K.....না আর লেখলাম না।[ সংগ্রহীত ]

গল্প-৪

একটি ছেলে আর একটি মেয়ে রিক্সায়
করে ঘুরতে বের হয়েছে......

ছেলেঃ তোমাকে কিছু কথা বলারছিল।।
মেয়েঃ কি কথা??
ছেলেঃআমি জানি না কথা গুলো তুমি কি ভাবে নিবে...।।
মেয়েঃআরে বাবা এত না ভেবে বল তো কি হয়েছে???
ছেলেঃ আমি আর পারছি না, তোমার
সাথে মানিয়ে চলতে, অনেক চেষ্টা করেছি,কিন্তু পারিনি আর তাছাড়া আমি আর একজনকে এখন ভালোবাসি।।
আমি আর তোমাকে ভালোবাসি না।।
আমাকে একটু একা থাকতে দিবে???
ছেলেটা একনাগাড়ে সব বলে ফেলল.........
মেয়েটি সব শুনে দুই মিনিট চুপ
করে রইল............
তারপর
মেয়েটা ছেলেটার গালে একটা kiss
দিয়ে বলল,
মেয়েঃআমি জানি আমার জন্য এত ভালোবাসা ত্যাগ করে তুমি অন্য কাউকে ভালবাসতে পারবে না,দুনিয়ার যত সুন্দর মেয়েই হোক না কেন, সে তোমাকে যতই ভালবাসুক না কেন,তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কেউকে ভালবাসবে না।।অন্তত তুমি আমায় ছেড়ে যাবে না... কেন শুধু শুধু এগুলো বলে আমায়
কাঁদাও,নিজেও কষ্ট পাও???
এই বলে মেয়েটা ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে......
ছেলেটা কিছু বলতে পারে না শুধু তার
চোখ দিয়ে আনন্দ অশ্রু বেয়ে পড়ে মেয়েটির গাল ভিজিয়ে দেয়.........

গল্প-৩

একটি ছেলে একটি মেয়েকে ভালবাসত কিন্তু
মেয়েটি ছেলেটিকে ঘৃনা করত...

ছেলেটি বললঃ আমি তোমার ঘৃনাকে ভালবাসায় পরিনত করব এবং আমি তোমার বাড়ির সামনে আগামী ১০০ দিন দাড়িয়ে থাকব।

কখনো প্রচন্ড রোদ ওঠে ,কখনো বৃষ্টি হয়
কিন্তু
ছেলেটি সেই মেয়েটির বাড়ির সামনে দাড়িয়ে রইলো।

৯৯ তম দিন থেকে মেয়েটি
ছেলেটিকে ভালবাসতে শুরু করল।

মেয়েটি স্বিদ্ধান্ত নিলো সে ছেলেটিকে তার ভালবাসার কথা জানাবে।

১০০ তম দিনে সূর্য ওঠার সাথে সাথে মেয়েটি
ছেলেটি যে জায়গায় দাড়িয়ে ছিল সেখানে গেল
কিন্তু
ছেলেটি সেখানে ছিল না !

সে একটি "চিরকুট" খুজে পেল ,
যেখানে লেখা ছিলঃ

“তুমি বাড়িতে বসে যখন রোদ বৃষ্টি উপভোগ করছিলে ঠিক সেই সময় গুলো তে তোমার পাশের বাড়ির মেয়ে টি আমায় ভালবাসতে শুরু করে

সে আমায় ২৭ দিনের দিন থেকে বলছিল সে আমায় ভালোবাসে আমি ৯৯ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি
এর মাঝে সে প্রতিদিন জানিয়েছে
সে আমায় ভালোবাসে

অবশেষে
আমি আমার সত্তিকারের ভালবাসা খুঁজে পেয়েছি

তাই
আমি তোমার পাশের বাড়ির মেয়েটিকে কথা দিয়েছি
তোমার মাঝে যে পৃথিবী খুঁজেছিলাম
ঐ মেয়ে আমার মাঝে খুঁজে
ভালো থেকো ”

মোরাল :
যখন তুমি সত্যিকারের ভালবাসা পাও
তাকে সন্মান করতে শেখো ।
কারন
আজ যা তুমি খুব সহজে পেতে পারো ,
হয়ত কাল তা তুমি হাজার কাদলেও পাবে না।

-কিছুটা প্রেম আর বাকীটা ভালোবাসা ।।

-কিছুটা প্রেম আর বাকীটা ভালোবাসা ।।

মুখ ভার করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো বৃষ্টি। আমাকে চমকে দিয়ে হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে
ধরে বলেই ফেললো , " আমি তোমাকে ভালোবাসি" ; ঘটনার আকস্মিকতায় আমি ততক্ষনে বোকা বনে গেছি। চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম কেউ দেখছে নাকি। কোনভাবে বৃষ্টির বাহুবন্ধন ছারিয়ে দৌড়ে পাশের ঘরে আম্মুর কাছে গেলাম। সেখানে আম্মু আর বৃষ্টির মা গল্প করছিলেন। আমি আম্মুর কোলে যেয়ে কাঁদো কাদোঁ হয়ে বলে দিলাম, "আম্মু বৃষ্টি বলে ও নাকি আমাকে ভালোবাসে। আমাকে ছারা নাকি বাঁচবে না। আমার এখন কি হবে আম্মু। ও কত পঁচা মেয়ে।" আমি হাউ মাউ করে কেঁদেই ফেললাম। আমার কান্না না থামিয়ে দুই মহিয়সী নারী তখন আমার কথা শুনে অট্টহাসিতে ব্যাস্ত।

আমার বয়স তখন সাত কি আট বছর আর বৃষ্টি পাঁচের আশেপাশে। সেই বয়সে আমি সুকুমার রায় কিংবা তিন গোয়েন্দা পড়ে বিশাল জ্ঞানী আর বৃষ্টি সারাদিন বাংলা আর হিন্দি সিনেমা দেখে ভীষন রোমান্টিক মেয়ে। আমাকে দেখলেই গান শুরু করতো, " তুম পাস আয়ে, ইউ মুজকো রায়ে..." বৃষ্টির আচার আচরন তেমন পছন্দ না করলেও বৃষ্টিকে ছারা আমার কোন উপায় ছিল না। চারদেয়ালের বন্দী জীবনে বৃষ্টিই ছিল আমার খেলার সাথী অথবা বলা যেতে পারে সবথেকে ভালো বন্ধু। আমি যখন ওকে হারকিউলিসের অভিযানের গল্প শোনাতে চাইতাম ও উল্টা আমাকে হিন্দী মুভির রিভিউ শুনিয়ে দিতো। খুব ভালো নাচতে পারতো, হাত পা কোমড় দুলিয়ে নেচেও দেখাতো। মাঝে মাঝে গলার ওড়না ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কি একরকমের নাচ দিত যা সেই বয়সে আমার জ্ঞানের বাইরে ছিল। দু একবার সর্প নাগিনের নাচ দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছিল।

আমার সুহৃদয় সম্পন্না আম্মাজান বৃষ্টিকে অতিশয় পছন্দ করতেন। বৃষ্টিকে ঘরে তোলার বেশ ইচ্ছেও তার মাঝে দেখা যেতো। হয়ত নিজের মেয়ে ছিলনা বিধায় এই দুষ্ট মেয়েটিকে অনেক বেশি আদর করতেন। ছোট বেলা থেকে দেখেছি বৃষ্টি ওদের বাসায় না থেকে আমাদের বাসাতেই থাকতো বেশি। বৃষ্টির বাবা মাঝে মাঝে রসিকতা করে বলতেন, "এখন থেকেই এই বাড়িতে ঘর সংসার বেঁধে ফেলেছো, যখন একেবারে তোমাকে এই বাড়িতে পাঠিয়ে দেব তখনতো বাবা মা কে চিনবে না।" এই কথায় বৃষ্টি লজ্জিত হওয়ার পরিবর্তে আমার দিকে তাকিয়ে হাফ ইঞ্চির ঠোট দুই ইঞ্চি করে একটা হাসি দিতো। ওর সেই হাসির রহস্য উদঘাটনের কোন আভাস আমি তখনো টিনটিন সিরিজে পাইনি।

এভাবেই দেখতে দেখতে বেশ কিছু বছর কেটে যায়। আমি তখন দশম শ্রেনীতে পড়ি আর ও ক্লাস সেভেনে। তখনো আমাকে জ্বালাতন করা থামেনি। ও যখন আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো, ওকে দেখতে আমার কেমন যেন কার্টুন কার্টুন মনে হতো। হাতে পায়ে লম্বা হলেও দুষ্টামি কমেনি ওর। একদিন পরীক্ষার আগে আমি কোচিং এ। ও কখন যে একটা লাভলেটার লিখে আমার টেবিলে রেখে গেছে আমি জানতামই না। আমার বাবা কখনো আমার খোঁজ খবর না নিলেও সেদিন কি মনে করে আমার ঘরে যেয়ে এই ভয়ংকর মেয়ের লাভলেটার উদ্ধার করে। আমি যখন বাসায় ফিরলাম দেখি যে দুই ফ্যামিলি একত্র হয়ে বসে আছে। আম্মু আমার দিকে লাভলেটারটা বাড়িয়ে দিলেন। চিঠির শেষে ছোট্ট করে প্যাচের হাতে লেখা, " ইতি , তোমার ভালোবাসার বৃষ্টি।" আমি এবারও ঘটনার কিছু বুঝতে না পেরে কেঁদেই ফেললাম, একটু পরে দেখি বৃষ্টিও আমার সাথে কান্নাকাটি জুরে দিয়েছে। দুজনকে কান্না করতে দেখে দুজন বাবা আর দুজন মা কিভাবে এত হাসতে পারে সেটাও আমি এখনো বুঝতে পারি না।

এরই মাঝে বছর দুয়েক পেরিয়ে যায়। আমি কলেজে তখন ভবিষ্যত গড়ায় ব্যাস্ত। নিক্তি আর ক্যালভিন স্কেলের সুক্ষ রিড খাতায় টুকে স্যারকে দেখিয়ে মার্ক বাড়ানো ছারা তখন আর কোন লক্ষ্য স্থির করতে পারছিলাম না। হঠাৎ করেই একদিন আমার জন্মদিনে বৃষ্টির দেয়া গিফট দেখে ওর কথা মনে পরে গেলো। কিছুদিন থেকে যে ও আমাকে জ্বালাতন করছে না সেটা আমি বুঝতেই পারিনি। কেন যেন ওকে দেখতে খুব ইচ্ছে হলো সেদিন। আর সেদিন বিকেলেই আমার জীবনের সব থেকে বড় হৃদকম্প হয়েছিল, রিকটার স্কেলে পরিমাপ করলে যার মাত্রা নয় ছারিয়ে যাবে।

সেদিন বিকেলে ছাদে বসে আমি ভাবছিলাম বৃষ্টির আবার অসুখ করলো নাকি। নইলে যে মেয়ে সারাদিন আমার পাশে ঘুর ঘুর করে সে হঠাৎ করে কোথায় চলে যাবে? হঠাৎ করেই দেখি কোন একটা মেয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আমি যেদিকটায় তাকিয়ে ছিলাম সেদিকে তাকিয়ে আছে। পড়নে লাল পারের শাড়ি, ঠোঁটে হালকা লাল লিপস্টিক, চোখে বেশ করে কাজল দেয়া, চুল ছেরে দেয়াতে মেয়েটাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছিলো। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম এইটা বৃষ্টি। আমি পুরাই আহাম্মক হয়ে গেলাম। এই কয়দিনে বৃষ্টি কত বড় হয়ে গেছে,আবার তার উপরে পুরাই অপ্সরী ছারিয়ে গেছে! আমি কাছে যেয়ে আস্তে করে বললাম," বৃষ্টি, তোকে আজ দেখতে খুব সুন্দর লাগছেরে, মনে হচ্ছে আধোনীল আর আধো গোধূলীর আকাশ থেকে কোন রাজকন্যা নেমে এসেছে" ; লজ্জায় টমেটোর মত মুখ করে দৌড়ে পালিয়ে যায় বৃষ্টি।

এরপর আমার ধারে কাছেও ভিরতো না বৃষ্টি। কোন কারনে ভুল করে যদি আমি ওর সামনে পরে যেতাম লজ্জায় মাথা নীচু করে রাখতো। আমি এক সময় অনুভব করলাম এই মেয়েটার সাথে আমার হৃদয়ের কোন সম্পর্ক আছে। আমি ঘুমাতে গেলে ঘুমাতে পারি না, রাস্তায় হাটার সময় বিরবির করে কি যেন বলতে থাকি, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বৃষ্টিদের বাসায় উঁকিঝুকি মারি ওকে একটু দেখার আশায়। বুঝলাম আমি শ্যাষ।

এরই মধ্যে আমি চুয়েটে চান্স পেয়ে যাই। ঢাকায় হয়নি বলে মনে তখন বিশাল ক্ষত। সবচেয়ে বেশি কস্ট হচ্ছিল বৃষ্টিকে দেখতে পারব না ভেবে। ইচ্ছে ছিলো যাওয়ার আগে বৃষ্টিকে ভালোবাসার কথা বলবো, কিন্তু আমার হৃদয়ের অপারেটিং সিস্টেম থেকে বলতে লাগলো, " আপনার বুকে যথেষ্ঠ পরিমান সাহস জমা নেই, অনুগ্রহ পূর্বক রিচার্জ করে আবার আসুন, ধন্যবাদ।"

প্রতি সেমিস্টার শেষ করে সোজা ঢাকায় চলে যেতাম, কিন্তু তখনো আমি সাহসের ফার্স্ট লেভেল পার করতে পারিনি। টুকটাক কথা চলতো আমাদের, কিন্তু সাহস করে ভালোবাসি শব্দটা বলতে পারতাম না। আমি তখন বুঝতে পারি যারা সত্যিকারের ভালোবাসে , ভালোবাসার মানুষের কাছে প্রথমবার এই শব্দটি বলা কতবড় দুষ্কর কাজ। কনকনে শীতের মাঝেও ওকে দেখলে আমি ঘামিয়ে যেতাম। এভাবেই লুকোচুরিতে চলতে থাকে দুটি মনের নিরন্তর ভালো লাগার খেলা। কিন্তু হঠাৎ করেই সব কিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেলো।

আমি তখন ফাইনাল দিয়েছি। দুইদিন পরে রেজাল্ট আসবে। আর মাত্র দুইদিন পরে আমি গ্রাজুয়েট হতে যাচ্ছি ভাবতেই কেমন যেন শিহরন জাগে গায়ে। এরই মধ্যে আমার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। মেসেজে লিখা ছিলো, "কাল আমার বিয়ের কথাবার্তা পাকা করবে। যদি ভালোবাসো ফিরে এসো; বৃষ্টি।" আমি স্তদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। পাশে থেকে বন্ধু ইমন ঝুকে পরে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো," কিরে খিজ খাইলি কেন? কি হইছে?" আমি অস্ফুস্ট স্বরে শুধু বললাম ,"বৃষ্টির বিয়ে।"

বন্ধু যে কত মহান হতে পারে আমি সেদিন হারেহারে বুঝতে পেরেছিলাম। রাত সাড়ে চারটায় ইমন আমাকে নিয়ে মোটরসাইকেল হাকিয়ে রওনা দিলো বাস কাউন্টারে। যেয়ে দেখি লাস্ট বাস ছেরে গেছে। সকাল ছারা উপায় নাই। কি আর করা, দুই বন্ধু মোটর সাইকেল নিয়েই রওনা দিলাম ঢাকায়। আমি কিছুতেই বৃষ্টিকে হারাতে চাই না। ছোট বেলার ছোট ছোট সব স্মৃতি মনে পরে যাচ্ছিল। কেউ যদি আমাকে রচনা লিখতে বলে চাইল্ডহুড মেমরী নিয়ে তাহলে সাত পৃষ্টা জুড়েই থাকবে বৃষ্টির কথা। সেই বৃষ্টিকে আমি হারাতে বসেছি !

সন্ধ্যায় ঠিক আগে আগে আমার বাসার কাছেই পৌছলাম। দৌড়ে আমাদের বাসায় না যেয়ে সোজা বৃষ্টিদের বাসায় ঢুকলাম। বাসা ভর্তি মেহমান। কিছু অচেনা লোক। আমি তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য। হাপাতে হাপাতে মুরব্বিদের সামনে যেয়ে পাগলপ্রায় হয়ে সিনেমার স্টাইলে বলে ফেললাম,"এই বিয়ে হতে পারে না। I Love Her From Childhood !"

পাশে তাকিয়ে দেখি আমার বাবাও বসে আছে। মুরুব্বিরা সব একে অপরের দিকে তাকাতে শুরু করেছে। আমি পাগলের মত কিসব বলে ফেলেছি। আজ এখানে নির্ঘাত কোন লঙ্কাকান্ড না হয়ে যায় না। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘরে হাসির রোল পরে গেলো। কেউ হাসি থামাতে পারছে না। আমি ভাবলাম লং জার্নিতে গায়ে মুখে কালি লেগেছে তাই হয়ত হাসছে, হাত দিয়ে গাল ঘষতে লাগলাম। পরে যেয়ে জানতে পারলাম সেদিন বৃষ্টির সাথে আমারই বিয়ের কথা হচ্ছিল।

পাশের ঘরের জানালায় বৃষ্টি তাকিয়ে ছিল। পা টিপে পেছন থেকে যেয়ে ওর ঘাড়ে হাত রাখলাম। বৃষ্টি মৃদু কেঁপে উঠলো। আজ ওকে অপ্সরীর মত দেখাচ্ছে। ওর গাল টিপে দিয়ে বললাম," এখনো দুষ্টুমী কমেনি তোমার?" লজ্জা রাঙা মুখ ঢাকতে আমার বাহুডোরে এসে ধরা দিলো আমার স্বপ্নের অপ্সরী। দুহাতে জরিয়ে নিলাম সারা জীবনের জন্য। আজও দুষ্টুমী কমেনি ওর বরং ভালোবাসা বেড়েছে।

[সংগ্রহীত ]