আমাদের ফেসবুক পেজে জয়েন করুন http://www.facebook.com/vhalobashar.golpo

রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৩

-এই অবনি শোনো
-কি হইছে?
-না কিছু না
-কিছু বলবা?
-না বলবো না
-ডাকলে যে
-এমনেই ডাকলাম। আমি আসি বাই
-আচ্ছা বাই

কয়েকদিন ধরে অবনি খুব টেনশনে আছে। নীরব ছেলেটা কি ওকে কিছু বলতে চাইছে বা বোঝাতে চাইছে। ছেলের নাম যেমন নীরব কাজ-কারবারও নীরব। ওর কান্ড কারখানা একটুও ভালো ঠেকছে না অবনির।

সেদিন রাত ১২টার সময় ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করছে, ইংলিশ এক্সাম কবে? এতো রাতে কেউ কাউকে নিশ্চয়ই এটা জিজ্ঞেস করতে ফোন করে না। গভীর রাত প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য বরাদ্দ। এই সময় টা অযথা নষ্ট করা উচিত না। নীরবকে নিয়ে চিন্তা দিনদিন বেড়েই চলছে। এরকম মিনমিনিয়ে থাকা ছেলেরা খুব ডেন্জারাস হয়। হঠাত কোন একদিন কাপা কাপা হাতে গোলাপ নিয়ে ভাঙা গলায় বলবে আই লাভ ইয়ু। আর এদের না করলে নানান রকম পাগলামী শুরু করে। তাই এদের থেকে সাবধান হওয়া দরকার।

নাহ আজকেও অবনিকে ভালবাসি কথাটা বলা হলো না। আচ্ছা ও বাঘ না ভাল্লুক যে ওকে এতো ভয় করতে হবে? আরে বাবা ভালবাসার অফারই তো দিবো এতে রাগ তো করার কথা না। নাহ আর দেরী করা ঠিক হবে না। সুন্দরী মেয়েরা বেশিদিন সিঙ্গেল থাকেনা। যদি আরও দেরি করি তবে কোন সময় কোন বজ্জাত এসে অবনীকে নিয়ে উড়েও যেতে পারে। অবনীকে উড়তে দেয়া যাবেনা, আটকে রাখতে হবে মনের কোটরে। মনে মনে কথাগুলো ভেবে নিজেকেই ধিক্কার দিচ্ছে নীরব। আজ সে সিদ্ধান্ত নেয়, যে করে হোক ভালবাসি বলবেই। যে করে হোক অবনির হাতটা ধরবেই।

-এই নীরব শুনো। তোমার কাছে ম্যাথ নোট আছে?
-হুম আছে তো কেন লাগবে?
-হুম আজকেই লাগবে প্লিজ একটু দিবা?
-আচ্ছা এখন তো আমার কাছে নাই তোমাকে বিকেলে দিয়ে আসবো ।
-আমার নোট তুমি কষ্ট করে দিবে কেন, আমি নিজে গিয়ে নিয়ে আসবো তাছাড়া আন্টির সাথে অনেকদিন কথা হয়না একবারে কথা বলেও আসবো।
-না আমার কষ্ট হবে না। তাছাড়া তুমি কেন কষ্ট করে আসবা আমিই নাহয় দিয়ে আসবো।
-বলছিনা আমি আসবো বেশি কথা বললে তোমার নোট নিবোই না ।
-আচ্ছা ঠিক আছে তুমিই আইসো ।

নীরবের রুমের অবস্থা আসলেই খুব খারাপ। একটা ছেলের রুমের ঠিক যে এরকম হয় অগোছালো হয় তা অবনির জানা ছিল না। বুকসেলফে বইগুলো এলোমেলো, বিছানায় টিশার্ট পড়ে আছে, গিটার একটা খাটের উপর, রুমে সব বিদেশি ব্যান্ডের ছবি। রুমের এই করুন অবস্থা দেখে অবনীর চোঁখ ছানাবড়া। যাইহোক বহু কষ্টে রুমের একপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত খুঁজে ম্যাথ নোট পেলো। কিন্তু হঠাত করে টেবিলের উপর রাখা একটা কালো ডায়রীর দিকে চোঁখ পড়লো। একজন মানুষ ডায়রী লিখতেই পারে, কিন্তু তবুও নীরবের ডায়রীটা নিজের অজান্তেই হাতে নিল অবনি। অন্যের ব্যক্তিগত জিনিস পড়ার অভ্যাস নেই ওর, তবে কেন জানি নীরবের ডায়রী পড়তে খুব ইচ্ছে করছে তার। তাই নীরবের ডায়রীটা সংগে নিয়েই চলে আসলো। মানুষ ডায়রীতে তার মনের অব্যক্ত কথাগুলো লিখে রাখে। নীরবের মনের কথাগুলো জানা দরকার।

-কি ব্যাপার অবনি হঠাৎ ডাকলে যে?
-ডাকলাম তোমার সাথে কথা আছে।
-কি কথা?
-এই নাও তোমার নোট
-ও থ্যাংকস। এক্সাম শেষ? না। "তবে দিয়ে দিচ্ছো যে" এমনেই দিয়ে দিলাম।
-আজ এতো সাজগোজ করছো কেন? কোন অনুষ্ঠান আছে?
-হুম আছে তো। আচ্ছা তুমি রাসেল ভাই কে চিনো?
-কোন রাসেল?
-ঐ যে লম্বা করে হ্যান্ডসাম দেখতে ।
-ঐটার ভিতর হ্যান্ডসামের কি দেখছো?
সারাদিন একটা কালো সানগ্লাস পড়ে বসে থাকে। আমার মনে হয় উনার এক চোখ নাই। কানা হয়তো ।
-এই ওকে নিয়ে খারাপ কথা বলবা না। ওকে আমার খুব ভালো লাগে। উফফ কি জোশ দেখতে।
-কি, কি বলো এইসব?
-ঠিকই বলি। আচ্ছা এখান থেকে যাও তো রাসেল এখুনিই এসে পড়বে। আজ ওর সাথে সারাদিন ঘুরবো তাই সাঁজগোঁজ করেছি।
-সত্যি বলছো ।
-তোমার সাথে মিথ্যে বলবো কেন? তুমি আমার কে?
-হুম তাও ঠিক আমি তোমার কে যে আমাকে এইসব উত্তর দিবা। আচ্ছা আসি তাহলে ।
-বাই বাই ...

অবনিকে রেখে নোট টা নিয়ে চলে আসলে নীরব । ওর ধারনা তাহলে সত্যিই হলো, এক ছেছড়া এসে অবনিকে নিয়েই গেল। ধুর নিজের প্রতি প্রচন্ড ঘৃনা হচ্ছে। এখন ওর মনে অনেকগুলো কষ্ট জমা হয়েছে। সে পার্কের বেষ্ণে বসে মেঘ দেখছে। মেঘ দেখলে তার দুঃখ কিছুটা লাঘব হয়।

-এই ছেলে এখানে কি করো অবনির ধাক্কায় বাস্তবে ফিরে আসলো নীরব।
- আরে তুমি এখানে কি করো তোমার না রাসেল ভাইয়ের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা।
-যাই নাই
-কেন?
-এমনিতেই। আচ্ছা আমি রাসেল ভাইয়ের সাথে গেলে তোমার কষ্ট হতো, তুমি কি দুঃখ পেতে?
-পেতাম বলেই এখানে শুয়ে শুয়ে মেঘ দেখছি। মেঘ দেখলে আমার কষ্ট লাঘব হয়।
-কি?
-হুম সত্যি তুমিও একদিন ট্রাই করে দেখো কষ্ট কমে যাবে। তুমি না আসলেই একটা গলটু ।
-এই তুমি গলটু নামটা তুমি কি করে জানলে? এটা তো শুধু আমার মা ডাকে। মা তোমাকে বলছে তাই না? আজব সব কথা বলে দেয় ।
-না আন্টি বলে নাই। আচ্ছা তোমার রুম থেকে কি কোন ডায়রী মিসিং হইছে।
-ডায়রী.. হ্যা হইছে তো। তুমি জানো কিভাবে?
-আমি সব জানি ।
-হ্যাঁ? বুঝছি তুমি নোট নিতে আসছো তখন আমার ডায়রীটাও সাথে নিয়ে গেছে তাই না?
-হুম হয়তো।
-কি বললা ?
-হয়তো নিছি দুজনেই এখন চুপ, আমাকে ভালবাসো?
-ইয়ে মানে ডায়রীতে সব এমনেই লিখছি কিছু প্লিজ রাগ করো না ।
-আমার সাথে সারাজীবন থাকতে পারবা?
-ইয়ে না মানে...
-ইয়ে ইয়ে কি করছো মনের কোন কথা থাকলে বল তাড়াতাড়ি। মনে রাখবা সুন্দরীরা সিঙ্গেল বেশিদিন থাকেনা ।
-না মানে মারবে নাতো ।
-আরে গাঁধারাম এখন যদি ভালবাসি না বলো তবে সত্যি সত্যি কিন্তু মারবো।
-ইয়ে মানে আই লাভ ইয়ু ।
-এরকম কেউ কাউকে প্রপোজ করে নাকি? হাটু গেড়ে ফুল দিয়ে বলো তা নাহলে গুড বাই ।
-কি হাটু গেড়ে বসতে হবে? ফুলতো নাই ।
-আচ্ছা যাও শুধু হাটু গেড়ে বসে প্রপোজ করো তাহলেই চলবে।
-এটা সত্যি করা লাগবে ।
-হ্যা লাগবেই নীরব নিরুপায় হয়ে হাটু গেড়ে বসে বললো, আই লাভ ইয়ু অবনী অবনি মুচকি হেসে বললো ।
-আই লাভ ইয়ু টু গলটু ।
-এই তোমার হাতটা একটু ধরি?
-না -ধরি না -আচ্ছা ধরো ।
-থ্যাংকস ।
-হিহি সারাজীবন এভাবে ধরে রাখতে পারবা তো?
-হ্যা পারবো, সারাজীবন ধরে রাখবো...

লিখেছেনঃ Nahid Amin

" রি "

 " রি "
লিখেছেনঃ ( পুপে )

— রি, শোন না একটু।
— হু ?
— ভালো আছিস?
— হু
— ঘুমাচ্ছিলি?
— উহু
— কি এত হু হু করছিস ! একটু কথা বল না।
— তোর মত গাধার সঙ্গে আমার কোন কথা নেই।
— মানে কি? আমি আবার কি করলাম?
— কি করিসনি সেটা জিজ্ঞেস কর।
— আরে আজব, না বললে বুঝবো ক্যামনে?
— আমি আজব ই। তোর ইয়ের কাছে যা, সে আজব না।
— আমার ইয়ে?
— কেন এখন আপনার ইয়ে কে চিনতে পারছেন না? রাত জেগে আপনার নোট লিখে দেয় আরও কত্তো কি !
— ও আচ্ছা, এবার বুঝলাম।
— কিছুই বুঝিসনি, রাখছি এখন।

অর্ক কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই লাইন কেটে দিল রিদান্নিতা । কিছুই ভালো লাগছে না তার। ইদানিং খুব অল্পতেই মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে, এটা যে ভালো হচ্ছেনা দিব্যি বুঝতে পারছে কিন্তু তবুও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। অর্ক আর রিদান্নিতা দুজনেই ভীষণ ভালো বন্ধু। বন্ধু ছাড়া অন্য কিছুই কখনো ভাবেনি অর্ককে কিন্তু ইদানিং স্পর্শীয়ার সঙ্গে অর্কের বন্ধুত্ব কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা। আর স্পর্শীয়া মেয়েটাও ভীষণ গায়েপড়া স্বভাবের যেন অর্ক ছাড়া আর কোন ছেলেই নেই পৃথিবীতে ! আচ্ছা অর্ককে কি ভালোবাসে সে ? এটা ভেবেই নিজের উপর খুব রাগ হল রিদান্নিতার। কিসব ছাইপাশ ভেবেই যাচ্ছে কখন থেকে। অর্ককে কেন ভালোবাসবে সে, অর্ক তার বেষ্ট ফ্রেন্ড, ব্যস আর কিচ্ছুনা।

ღ দুইদিন পরের দৃশ্যপট...

— রি,এই রি, কই যাচ্ছিস ?

দৌড়ে রিদান্নিতার সামনে গিয়ে হাঁটুতে দু'হাত দিয়ে দাঁড়ালো অর্ক।

— কি হল কথা বলছিস না কেন রি ?
— কোথায় যাব আর, আমার তো দুটা পাঁচটা শশুরবাড়ি আছে, ওখানে যাচ্ছি।
— যাচ্চলে। তোর এত শশুরবাড়ি আর আমিই জানলাম না। এইটা কিছু হইল !

চুপ করে আছে রিদান্নিতা। চোখ জলছে, এক্ষুনি জলে ভিজে যাবে। অর্ককে এই চোখের জল দেখানো যাবেনা। দুইদিন নিজের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত যুদ্ধ করার পর আজ ভার্সিটি এসেছে সে। এসেই অর্ককে স্পর্শীয়ার সঙ্গে দেখবে ভাবতে পারেনি ।

— কিছুনা, আমাকে যেতে দে।
— যেতে তো দেবই, তার আগে বল তোর মুখ চোখ শুকনো লাগছে কেন ? — আমাকে কি তোর ইয়ের মতো ন্যাকা মেয়ে পাইছিস যে ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে কাঁদব আর ভেজা ভেজা লাগবে ?

এই বলেই মুখ নিচু করে ফেলল রিদান্নিতা। পৃথিবী উজার করে কান্না পাচ্ছে ওর। এই পাগলটা কেন বুঝেনা সে ওকে ভালোবাসে।

বেশ কিছুটা মুহূর্ত কেটে গেল, কেউ কোন কথা বলছেনা। অর্ক হাত বাড়িয়ে রিদান্নিতার হাত ধরলো, যেন স্পর্শেই "রি" কে সব বুঝিয়ে দিতে চাইছে।

— ন্যাকা মেয়েটা বোধহয় আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে, বুঝলি রি।

নিরবতা ভেঙে বলল অর্ক।

— মানে?

ইতিওতি তাকালো "রি", কোথাও স্পর্শীয়াকে দেখতে পেলনা ।

— এভাবে খুঁজলে হবে?

কিছু না বলে প্রশ্নচোখে তাকাল রিদান্নিতা অর্কের দিকে।

— আমার ইয়েকে দেখতে হলে যে আমার চোখের দিকে তাকাতে হবে মিস হিংসুটে !

অদ্ভুত এক ভালো লাগা মুহুর্তেই সব অভিমান ভুলিয়ে দিল রিদান্নিতার। অনেকক্ষণ ধরে জমে থাকা মুক্তোদানার মতন অশ্রু জল টা গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে। কনে দেখা আলোয় ভেজা চোখ আর ঠোঁটের কোণে আলতো হাসি নিয়ে রিদান্নিতা অর্কের হাত খুব করে আকঁড়ে ধরলো !

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

আবেগ ও ভালোবাসা

আবেগ ও ভালোবাসা
লিখেছেনঃ অনলী দিগন্ত (dipto sarkar)

ফোন বাজছে, শুনতে পাচ্ছ না?
-বাজুক, বাজতে দাও

মানে কি? আন্টি ফোন করছে মনে হয়
-জানি তো মায়ের কল

তো? এখনি ফোন ধরো।
-পারবো না, পারবো না, পারবো না

বলছি ধরো, আদিখ্যেতা দেখাবে না
-সব সময় mastergiri দেখাবে না একদম

বেয়াদপ, দিব একটা থাপ্পড়
-হা তাই দাও, থাপ্পড় না গলা টিপে মেরো ফেলো আমায়।

ফোন টা ক্রমাগত বেজে চলছে। . . .

হাল্লো আসসালামুয়ালিকুম, আন্টি আমি আকাশ, ওপাশ থেকে rahela বেগম জিজ্ঞেস করল আকাশ? নিশি'র ফোন তোমার কাছে?
-হা আন্টি, ও আমার সাথে দেখা করতে এসেছে ।

ওতো কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। আচ্ছা তাড়াতাড়ি বাসায় পাঠিয়ে দেও।
-জ্বি আচ্ছা ।

আকাশ, গ্রামের এক মেধাবী ছাত্র। বাবা মা অনেক গরিব কিন্তু তাদের অনেক স্বপ্ন এক মাত্র সন্তান আকাশ কে নিয়ে। তাই বাবা মায়ের স্বপ্ন পূর্ণ করতে শহরে পড়তে আসা। আকাশ যে কয়েকটা টিউসনি করে তার মাঝে নিশি একটা ।

নিশি'র বাবা আরিফুল হাসান শহরের সব থেকে বড়লোক ও খমতাধর ব্যাক্তি। সবাই এক নামে চিনে। নিশি তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। অনেক আদুরে তাই অনেক জেদি স্বভাব। যা বলবে তাই করবে। সেটা না হলে শুরু হয় ভাংচুর। ভাবে মা আর ওই স্বভাব কে prosroy দেয়।

নিশি ক্লাস ১০ পড়ছে আর আকাশ নিশি কে দু বছর ধরে পরাচ্ছে, প্রথম দিকে সপ্তাহে ৩দিন পড়ালেও কিছু দিন পর নিশি'র জেদ এ সপ্তাহে ৬দিন পড়ায় ...

পার্ক এর এক কোনে আকাশ ও নিশি বসে :- তুমি আন্টি কে না বলে বাসা থেকে বেরিয়েছ?
-হ্যা, পালিয়ে আসছি। আর পালিয়ে গেলে কাউ কে বলে আসতে হয় না।

পালিয়ে আসছ? কেন?
-তোমায় বিয়ে করবো তাই। এই দেখো বাসা থেকে সব গয়না নিয়ে আসছি। পালিয়ে বিয়ে করবো বলে। শুধু তাই না বাসায় আমার বালিশ এর নিচে চিঠি রাখছি যেটা তা লিখে রাখছি তোমার সাথে পালিয়ে বিয়ে করতে যাচ্ছি।

আকাশ অবাক হয়ে নিশি'র পানে তাকিয়ে ভাবতে লাগল, প্রথম যেদিন পড়াতে গেছিলো নিশি'র মা রাহেলা বেগম মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেছিলো বাবা আমার এই একটা মেয়েই অনেক জেদী তুমি মানিয়ে নিয়ে ওকে একটু পড়াইও। এর আগে অনেক টিচার টিকতে পারে নি ওকে পড়াতে। সেই যে মানিয়ে নেওয়া শুরু, আজ অবধি নিশির সব ন্যায় অন্যায় মানিয়ে নিয়ে চলছে।

নিশি পরীক্ষায় রেসাল্ট ভালো করতেছে তাই ওর মা আকাশকে অনেক আদর করত। আকাশ নিশিকে পরাতে পারত কারন আকাশ নিশির সম্পূন্ন উল্টাটা, শান্ত, ভদ্র। কিন্তু এই ছেলে তার উল্‌টা স্বভাবের মেয়ে নিশির প্রেমে পরে গেলো। নিশির সব পাগলামি, আবদার রাখতে রাখতে নিশিকে ভালো লাগা শুরু। যার জন্য হাসি মুখে সব মেনে নিয়েছে। আকাশ জানত নিশিকে ভালোবাসা অন্যায়, ওকে পাবে না, তবুও ভালবাসে গোপনে। হঠাৎ একদিন নিশি প্রপোস করে বসে আকাশ কে, আকাশ অবাক হয়ে যায় এবং মানা করে দেয়। সেই থেকে নিশির জেদ, পড়বে না, পরীক্ষা দিবে না। সামনে ক্লাস ৯ এর বার্ষিক পরীক্ষা আর এদিকে নিশির পাগলামি তাই বাধ্য হয়ে বলে আগে পরীক্ষা দাও। নিশি বলে না, আগে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আকাশ জিজ্ঞেস করে কি রকম? আমি ২০টা কাগজে আমাদের প্রেম এবং বিয়ের উপর লিখছি, তুমি তার থেকে একটা কাগজ তুলবা যেটা উঠবে আমরা সেটা করব। উপায় না দেখে একটা কাগজ তুলে যেটাতে লেখা আজকের এই তারিখে পালিয়ে বিয়ে! যার জন্য নিশি পালিয়ে এসেছে বিয়ে করতে।

নিশি পাগলামির একটা সীমা আছে। আমি তোমাকে পারবো না বিয়ে করতে, আমাকে লেখা পড়া শেষ করতে হবে। বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। অনেক পাগলামো দেখছি তোমার আর না। তুমি এখনে বাড়ি যাও।
-না যাবো না। তুমি সেদিন কাগজ তুলছিলে কেন?

বাধ্য হয়ে, তোমার পরীক্ষা, পড়বে না, পরীক্ষা দিবে না, তাই কাগজ তুলছি।
-তুমি আমায় ভালবাসো না?
নাহ, আমি আমার বাবা, মা ছাড়া কাউকে ভালবাসি না, চিঠিটা এখনো আন্টি দেখে নাই, তুমি দ্রুত চলে যাও।
-তুমি সত্যি আমায় ভালোবাসো না?

হ্যা সত্যি ভালবাসি না।

নিশি ডুকরে কেঁদে উঠল। . . . .

নিশি কেঁদে চলছে.......
নিশি কান্না থামাও মানুষ দেখছে
-দেখুক........
বুঝতে চেষ্টা কর তোমার সাথে আমার মিলে না। এই সম্পর্ক মূল্যহীন। তোমার বাবা, মা মেনে নিবে না। মাঝখানে আমার লেখা পড়া শেষ করতে পারবো না। তাছাড়া.....
-তুমি যদি আমায় আজ বিয়ে না কর আমি আত্মহত্যা করবো।
কর আত্মহত্যা? আমার কি? তুমি আমার সামনে থেকে চলে যাও। জীবন ও আমার সামনে আসবে না। তোমার মত মেয়েকে বুঝাতে যাওয়াটা বকামি। যত্ত সব নেকামো...
-ওকে আমি মরতে গেলাম

এটা বলে কাঁদতে কাঁদতে দৌড় শুরু করলো। আকাশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভাবতে লাগলো যা জেদি অঘটন ঘটাতে পারে। সেও পিছন পিছন দৌড়াতে লাগলো।

আকাশ পিছন থেকে অনেক চিৎকার করেও নিশিকে থামাতে পারলো না। বড় রাস্তা দৌড়ে পার হতে একটা ট্রাক নিশির উপর দিয়ে চলে গেলো।
আকাশ থমকে দাঁড়িয়ে গেলো, আবার দৌড়ে এসে নিশির রক্তে মাখা দেহটা কোলে নিলো। ততক্ষণে নিশি আর এই পৃথিবীতে নেই।তখন চার দিকে আকাশের কান্নার আওয়াজ ও চিৎকার ছড়িয়ে পড়লো...

রাহেলা বেগম বালিশের নিচে চিঠি পেয়ে আরিফুল হাসানকে দিলেন, উনি সেটা পরে রেগে আগুন। ঠিক তখনি খবর পেলেন নিশি আর বেঁচে নাই। কয়েক মুহুর্ত নির্বাক থেকে ঘোষণা করলেন, ছোট লোকের বাচ্চাকে ফাঁসিতে ঝোলাবো। বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।

পরদিন খবরের কাগজ গুলোতে খবর বেড়ালো, গৃহ শিক্ষকের হাতে ধর্ষণ হলো ইস্কুল ছাত্রী, হাত পা বেঁধে চলন্ত ট্রাকের নিচে ফেলে হত্যা।

আকাশ গেরেপ্তার হলো। চার দিক থেকে একটাই স্লোগান ধর্ষক আকাশের ফাঁসি চাই..

অতঃপর এরূপ ঘটনা যাতে আর না ঘটে তাই দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি স্বরূপ ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলো।

আজ রাতে একটু পর আকাশের ফাঁসি হবে। আকাশ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, অনেক তাঁরা জ্বলছিল সেখানে। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো মানুষ মারা গেলে নাকি আকাশের তাঁরা হয়ে যায়। ঐ যে উজ্জ্বল তাঁরাটা ওটা কি নিশি?

আকাশ চিৎকার করে বললো যে ভয়ে তোমাকে ভালোবাসতে পারিনি সে, ভয় এখন আর নাই।
নিশি আজ আমি আসছি তোমার কাছে, তোমায় ভালোবাসতে।
তখনি আকাশের মনে পরে গেলো বাবা মায়ের কথা। নিজেকে অপরাধী লাগছে তাঁদের স্বপ্ন পূর্ণ করতে পারল না।
উপরের তাঁরা থেকে চোখ নামিয়ে আকাশ মাটির দিকে তাকিয়ে আপন মনে বলে উঠল, নাহ গরীবের ভালোবাসার অধিকার মরার পরেও নাই।

ছেলেটি ও মেয়েটি

ছেলেটি ও মেয়েটি
লিখেছেনঃ-ফালতু বালক

ছেলেটি পছন্দ করে মেয়েটিকে। মেয়েটিও। প্রতিদিনই ক্লাসে চোখা-চোখি হয় দু'জনের। একে অপরের চোখের ভাষা পড়তে পারে দু'জনই। তবুও কিছুটা ভয় ও অনেকখানি সংকোচবোধ আড়ষ্ট করে রাখে সর্বদা দু'জনকেই। একে অন্যের প্রতি গভীরতম মমতাবোধ গুলো গোপন থাকে মনেতেই। কোনদিন কেউ ক্লাসে না এলে অন্যজনের দিনটাই নিরামিষ মনে হয়। আর এই জনও ক্লাসে না আসার বাঁধাটিকে বকা দিতে থাকে ইচ্ছামত।

এভাবেই দিনগুলো কেটে যেতে থাকে ধূসর। জ্যোৎস্না রাতের চাঁদটিও ধীরে ধীরে আপন হতে থাকে দু'জনের কাছেই। রোদমাখা উজ্জ্বল বিকেলটিও কাটতে থাকে মেঘমাখা। ঝুম বৃষ্টির দুপুর গুলোতে নিজেদেরকে ভীষণ রকম একলা আবিষ্কার করতে থাকে তারা। নির্ঘুম রাতের দীর্ঘ সময়টিতে ভাবনার বিষয়গুলোও সীমাবদ্ধ হতে থাকে একে অন্যের মাঝে ক্রমান্বয়ে।

সার্টিফিকেট অর্জনের গন্ডি পেরোনোর শেষ দিনটিতেও চোখা-চোখি হয় দু'জনের। কিছুটা কাছা-কাছি আসেও তারা। সৌজন্যবোধ আলাপও তাদের মাঝে হয় কিছুক্ষণ। তারপর, তারপর কিছুটা ভয় ও অনেকখানি সংকোচবোধটুকুকে আঁকড়ে ধরে একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নেয় তারা। হতাশ হয় প্রকৃতি। হতাশ হয় মেঘমুক্ত রোদমাখা আকাশ।

মেয়েটি চুলের খোপা থেকে বেলী ফুলের মালাটি খুলে, ছুঁড়ে ফেলে দেয় রাস্তায় কিছুটা বিরক্তে। কষ্ট করে শাড়ি পরাটা নিজের কাছেই নিজেরই বেমানান লাগতে থাকে মেয়েটির। আর ছেলেটি ডান পাশের প্যান্টের পকেটে রাখা কিছু অগোছালো বাক্যদ্বারা তৈরী প্রেমপত্রটি পকেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে পরক্ষণেই কি যেন ভেবে তা রেখে দেয় যথাস্হানে। স্বযত্নে।

অতঃপর, কোন এক বৃষ্টিদিনে মেয়েটিকে ছাতা মাথায় পিচঢালা রাস্তায় একাকী হাঁটতে দেখে ছেলেটি। সকল ভয় ও জড়তাকে বিসর্জন দিয়ে ছুটে যায় সে মেয়েটির কাছে। কাক ভেজা হয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসে সিনামা স্টাইলে অদৃশ্য কদম ফুল বাড়িয়ে বলে, "আমার মহা কালের যাত্রী হবে?" মেয়েটি মুচকী হাসে। পবিত্র হাসিটিকে ভেজাতে পারে না বৃষ্টি ফোঁটারা। হতাশ হয় তারা।

এটা একটা অসম্পূর্ন গল্প

এটা একটা অসম্পূর্ন গল্প
লিখেছেনঃ odhora chowdhury meghla (আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন)

চোখদুটো বন্ধ হয়ে আসছে সাইফুলের|বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘেরা একটা ঘুপচিঘরে যতটুকু আলো আসা সম্ভব,ঠিক ততটুকুই আলো সাইফুলের ঘরে|আবছা আলোতে ওর মনে হচ্ছে হয়ত এটা বিকেল বেলা| বিছানা ছেড়ে উঠে যে ঘরের দড়জাটা খুলে দেবে সেই শক্তিটুকুও শরীরে নেই|তিন দিনের জ্বরে এখন পর্যন্ত একটা ওষুধ পর্যন্ত পড়েনি|তবু কষ্ট করে উঠে কোনরকমে দড়জাটা খুলে দিল|আরে তাইতো,বিকেল তো হয়ে গেছে|

সাইফুলের মনে হচ্ছে এটাই তার জীবনের শেষ বিকেল|কারন গতবার এমন জ্বরেই সে তার বাবা মা কে হারিয়েছে| ওর মনে হচ্ছে ইতিমধ্যে জমদূতও তাকে নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে|বুঝতে পারছে এটাই মৃত্যুযন্ত্রনা|হয়ত এটাই তার শেষ বিকেল,তবু আল্লাহর কাছ থেকে আর কিছুটা সময় চেয়ে নেয় সে| চোখটা কিছুতেই খোলা থাকতে চাইছে না, তারপরেও সাইফুল আপ্রানচেষ্টা করছে যাতে সে আর কিছুক্ষনবেঁচে থাকতে পারে|কারন ঠিক এই সময়টাতে শহরের সবচেয়ে সেরা কলেজটা ছুটি হয়,আর একটা বিশাল কালো গাড়ি এসে দাড়ায় সাইফুলের ঘরের সামনের রাস্তাটায়|আর তার ভেতর থেকে নামে ওর স্বপ্নের রাজকন্যা| মেয়েটার চেহারায় আহামরি কিছু নেই|তবে অসম্ভব রকম সুন্দর একটা কাঠিন্য আছে| মনে মনে ভাবে এত বড়লোকের মেয়েদেরমাঝে এমন একটু কাঠিন্য ভাব থাকেই|তবে সাইফুলের কাছে এই কাঠিন্যই ভাল লাগে|মেয়েটার নামটা এখনো বলা হয়নি|সাইফুলের সেই স্বপ্নকন্যার নাম মেঘলা|

রাস্তার ওপাশেই বিশাল বড় বাড়িটা|তার দোতলায় থাকে মেঘলা|মেঘলার ঘরটা আর রাস্তার এপারে সাইফুলের ঘরটা একদম সামনাসামনি|মেঘলা বেলকুনিতে এসে দাড়ালেই সাইফুল ওকে দেখতে পায়| মেঘলা যতক্ষন দাড়িয়ে থাকে সাইফুল ঠিক ততক্ষন তার ভাঙ্গা কুটিরের থেকে ওকে দেখতে থাকে|তবে এই দু-তিন বছরেও মেঘলা বুঝতে পারেনি কেউ তার দিকে এভাবেতাকিয়ে থাকে|রোজ নির্দিষ্ট একটাসময়ে মেঘলা বেলকুনিতে আসে|মাঝে মাঝে সাইফুলের মনে হয় হয়ত ও মেঘলাকে দেখবে তাই মেঘলা আসে|আবার নিজেই নিজেকে শাসন করে এইসব ভুলভাল ভাবার জন্য|আবার নিজেকে প্রশ্ন করে,“আমি কি মেঘলাকে ভালবাসি?” ওর মন ওকে জবাব দেয়,“না|মেঘলাকে ভালবাসার সাহস তোর নেই,আর অধিকারও নেই|” আবার নিজেকে সান্ত্বনা দেয়,“মেঘলার মুখের ঐ কাঠিন্যই আমার ভাল লাগে|আর কিছুই না…“

উফ!!বুকের যন্ত্রনাটা তো বেড়েই চলছে,কমছে কই?তবুও মেঘলাকে ভাবতে ভাল লাগছে ওর|এই মেয়েটাকে ভাবতে ভাবতে যদি মরা যায় মন্দ হয়না|“প্রথম কবে মেঘলাকে দেখেছিলাম যেন?ওই তো যেদিন প্রথম আসলাম এই এলাকায়|মেঘলার বাবাই তো দয়া করে আশ্রয় দিয়েছিলেন,একটা চায়ের দোকান করে দিয়েছেন|ওর হঠাত মনে হয়,মেঘলা যদি আমাকে ভাল নাই বাসে তবে আমি যে দুদিন গ্রামে ছিলাম,তখন কেন মেঘলা তার চায়ের দোকানে এসেছিল?
উত্তরটা তার জানা নেই|তবে সাইফুল মেঘলার ব্যাপারে অনেক কিছু জানে|মেঘলার বাড়ির ছুটা কাজের বুয়ার থেকে সব শুনেছে|মেয়েটা কতটা ছেলেমানুষ,বাবার কত আদুরে,সারাদিন কি কি করে সব জেনেছে| তবে সবথেকে ভাল লেগেছে এটা জেনে যে মেয়েটার মনটা খুব নরম|

গাড়ির হর্নে বাস্তবে ফেরে সাইফুল|এই তো গাড়িটা এসে গেছে|মেঘলা নামছে গাড়ি থেকে|আহা সম্পূর্ন সাদা ইউনিফরমে মেঘলাকে তার মনের মতই লাগছে|মেঘলা চলে যাচ্ছে তার বাড়ির পথে|কোনদিন মেয়েটা এদিকে তাকায়না,তবুও সাইফুলের আজ খুব ভাবতে ইচ্ছে করছে,”আজ মেঘলা তাকাবে|তার দিকে এগিয়ে আসবে|”

নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা সাইফুল|মেঘলা সত্যিই এগিয়ে আসছে তার দিকে|মুখে কোন কাঠিন্য নেই,বরং মুখটা হাসি হাসি|ঈশ হাসলে কি সুন্দর দেখায় মেয়েটাকে!! মেঘলা সাইফুলের ঘরের দড়জায় এসে দাঁড়াল|সাইফুল জানেনাএই অসম্ভবটা কি করে সম্ভব!এর নামহ্যালুসিনেশন|বুকের যন্ত্রনাটাআরো তীব্র হচ্ছে|চোখের কোনে একফোটা পানি চলে এসেছে ওর|খুব ইচ্ছে করছে উঠে গিয়ে মেঘলার হাত টা ধরে ভালবাসি বলতে|কিন্তু পারছে না|চোখের সামনেটা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসছে|ঝাপসা হচ্ছে মেঘলাও…
আর কিছু ভাবতে পারলনা সাইফুল|তবুও জীবনের শেষ অসম্পূর্ন বাক্যটা উচ্চারন করল,“মেঘলা,তোমাকে সত্যিই…|”

গল্পটা শেষ|আমি এই গল্পের রাইটার|তাই আমি সাইফুলকে মরতে দেবনা|সাইফুল বাঁচবে…
ঐদিন শেষ বিকেলে সত্যিই একজন আসবে|সে সাইফুলের সেবা করে সুস্হ করে তুলবে|তারপর একটু একটু করে মেঘলার অস্তিত্ব ওর মন থেকে মুছে দেবে|তারপর??
আমিও আর জানিনা…
তবে আমি একটু কাঁদব|