আমাদের ফেসবুক পেজে জয়েন করুন http://www.facebook.com/vhalobashar.golpo

বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৩

হারিয়ে যাওয়া মেঘ

হারিয়ে যাওয়া মেঘ
লিখেছেনঃ- শেষ রাতের আঁধার

- তারেক , তুমি বুঝতে পারছ না? আমি কি বলছি?
- না।
- তুমি না বুঝলেও আমার কিছু করার নেই। আমি সত্যি কথা বলছি। সোজা কথা বলছি।
- আমি বিশ্বাস করব না।
- তোমার অবিশ্বাসে আমার কথা বা ডিসিশন কোনটাই পাল্টাবে না।

হিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো শুনছে তারেক। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে কথাগুলো। কষ্ট পেতে ভাল লাগে না। তাই অবিশ্বাস করছে কথাটা। ভালবাসার মানুষের কথা বিশ্বাস করতে হয়। তবে মাঝে মাঝে কিছু অবিশ্বাস বিশ্বাসের পাল্লা ভারী করে। হিয়ার সাথে ৩ মাসের সম্পর্ক। খুব বেশি সময় তা না। তবুও অনেক ভালবাসায় সম্পর্ক গভীর হয়েছে। গভীরতা অনেক। সম্পর্কে ডুবে গেছে তারেক। ভেসে উঠতে পারছে না। চোখে মুখে কষ্টের ছাপ স্পষ্ট তারেকের। হিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল...
-তুমি আমার সাথে এতদিন অভিনয় করেছ?
- আমি তা বলছি না। তবে আমার নাজিমের সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবার পর, খুব হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। যা পাই তাই আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছিলাম। কষ্ট ভুলে থাকার জন্য।তুমি সে সময়টাতে আমার জীবনে এসেছ। আমার কষ্ট দুঃখগুলো ভুলিয়ে দিয়েছ। আমি ঐ সময়টাতে তোমাকে অনেক আপন করে নিয়েছিলাম। কোন সময় যে সম্পর্কটা ভালবাসার দিকে চলে গিয়েছে টের পাইনি। ভালবেসে ফেলেছিলাম । নাজিমকে ভুলে থাকার জন্য তোমার ভালবাসায় সায় দিয়েছিলাম।কিন্তু নাজিম আবার ফিরে আসবে আমি ভাবতে পারিনি। আমি মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম। নাজিম যদি কখনও ফিরে আসে আমি ওকে পাত্তা দিব না। আমার জীবনে ঠাই দিব না।কিন্তু ও আমার কাছে এসে আবার ভালবাসার কথা বলার পর আমার ভিতরে কি যেন হয়ে গিয়েছিল। জানিনা কি। আমি সত্যি দোটানায় পরে গিয়েছিলাম। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই নি। কিন্তু নাজিম আমার প্রথম ভালবাসা। আমি ওকে ভুলতে পারছি না। আমি তোমার ভিতর সবসময় নাজিমকে খুঁজেছি। নাজিমের মত করে চেয়েছি। তুমি নাজিমের থেকে অনেক ভাল ছেলে। তবুও আমি পারছি না তারেক।
- তুমি নাজিমকেও ভালবাস, আমাকেও বাস। আমার সমস্যা নেই।
- এটা সম্ভব না। একটু বাস্তব হিসেবে দেখ। তুমি যা বলছ তা অসম্ভব। আমার তোমাকে অথবা নাজিমকে যে কোন একজনকেই ভালবাসতে হবে। আর আমার জানিনা কেন নাজিমের প্রতি ভালবাসাটা বেশি। আমার হুট করে কাজটা করা উচিৎ হয় নি। প্লিজ তারেক আমাকে মাফ করে দাও। আমি সত্যি চাইনি তোমাকে কষ্ট দিতে। আমরা ভাল বন্ধু হয়ে থাকতে পারি।

একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল তারেক। কিছুই বলার নেই। আটকে রাখার পথ নেই। বুকের ভিতর কষ্ট হচ্ছে খুব। মানুষ তার প্রথম মন থেকে বাসা ভালবাসা ভুলতে পারে না। হারাতে চায় না। হিয়াও চাচ্ছে না। তারেকও পারছে না। ছেড়ে দিতে। প্রথম ভালবাসা হারাতে। তবুও তারেক আস্তে করে বলল।.. " আমার একটা ইচ্ছা ছিল রাখবে?"
- বল।
- শেষ বার তোমার হাতটা একবার ধরতে দিবে? অল্প একটু সময়ের জন্য।

হিয়া হাতটা বাড়িয়ে দিল। তারেক ২ হাত দিয়ে হিয়ার ডান হাতটা ধরল। আলতো করে। ধরে রাখার জন্য না। একটু সময় ছুঁয়ে দেখার জন্য। সব ভালবাসা সবাই ধরে রাখতে পারে না। তারেক ভালবাসতে পারে। ধরে রাখতে পারে না। তারেক একটু হাসি দিয়ে বলল...
- আচ্ছা, ভাল থেক। আমি যাকে ভালবাসি তাকে পেলে ভালবাসার মানুষ হিসেবেই পাব। শুধু বন্ধু হিসেবে না। দোয়া করি সুখে থাক।
- আমাকে মাফ করে দিও তারেক। তুমি ভাল ছেলে। অনেক ভাল।আমি কত খারাপ । তোমাকে কষ্ট দিলাম।আমার পর যে তোমার জীবনে আসবে সে তোমাকে কখনও কষ্ট দিবে না দেখো!!! আচ্ছা আমি আসি।

মনের ব্যাপারগুলো অনেক জটিল। একেক জনের মনের একেক জটিলতা। একেক জনের একেক রকম, আবেগের পাল্টাপাল্টি।নিজের মনের ব্যাপারগুলো নিজেই হয়ত বুঝে না কেউ।
তারেক আকাশের দিকে তাকাল। আজ মেঘেদের কোন তাড়া নেই। কালো মেঘ, সাদা মেঘ, ধূসর মেঘ। কেউ ঝিম মেরে বসে আছে। কেউ ভেসে যাচ্ছে। একটু পর বৃষ্টি হবে। মেঘ অদৃশ্য হবে। মেঘের উপর মেঘ থেকে হবে পানির উপর পানি। বৃষ্টির উপর বৃষ্টি। সব মেঘ ঠিকই বৃষ্টি হয়ে যাবে। কালো মেঘ, সাদা মেঘ, ধূসর মেঘ। কেউ ঝিম মেরে বসে আছে। কেউ ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু এর সাথে তারেকের মিলালে চলে না। তারেক ঝিম মেরে বসে আছে। আর হিয়া চলে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে। তারেকের বৃষ্টি ঝরছে। চোখ থেকে। হিয়া বৃষ্টি ঝরাচ্ছে না। ভেসে যাচ্ছে। ও অন্য কোথাও ঝরাবে।

""লুল কিংবা তেতুল""

""লুল কিংবা তেতুল""
লিখেছেনঃ-পারভেজ এম রবিন

সাকিব সম্প্রতি কিঞ্চিত ক্যাচালে আছে। ক্যাচালের নাম কুলসুম; কুলসুম বানু। এই ভয়াবহুস্টিক ক্যাচাল তার গলায় মুক্তোর মালার মত যেই মহান ব্যক্তি ঝুলিয়ে দিয়েছেন, তিনি রবিন ভাই। রবিন ভাই ফেসবুকে নোট আকারে কিছুদিন পরপর চর্যাপদ টাইপের কিছু কিছু লেখা আপলোড করেন। সেই লেখার টাইটেলে থার্ড ব্রাকেটের মাঝে 'গল্প' লেখা থাকে বলে বোঝা যায় সেটা গল্প। যদি তিনি সেটা লিখে না দিতেন, তবে সেই লেখা ঠিক কী তার মর্মোদ্ধার করতে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে কবর থেকে উঠে আসতে হত। সাকিবের মাঝে মাঝে মনে হয়, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কেও যদি কখনও রবিন ভাইয়ের লেখা পড়তে দেয়া হয়, তবে তিনিও সিদ্ধান্ত নেবেন এসব চর্যাপদেরও আগে লেখা বাংলা ভাষার আদিতম নিদর্শন। বাংলা সাহিত্য নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি রবিন ভাইকে একুশে পদক দেয়ার প্রস্তাবও করতে পারেন। আর এখন ক্ষমতায় আছে লীগ। রবিন ভাইয়ের বাড়ি ফরিদপুর। জেলা কোটায় একুশে পদক পেয়েও যেতে পারেন। মঞ্চে উঠে রবিন ভাই ভাষণ দেবেন, “আমার এই সফলতার পেছনে যেই মহান মানুষটির চেতনা কাজ করছে, তার নাম বঙ্গবন্ধু...”।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, রবিন ভাইয়ের এইসব দুর্বোধ্য এবং অতি উচ্চমার্গীয় (!) লেখা পড়ে তার কিছু ফ্যান জন্মে গেছে। তারা গল্প পড়ে, “ওয়াও!”, “হাউ সুইট” কিংবা “ভেরি নাইস” টাইপের কমেন্ট করে। কুলসুমও রবিন ভাইয়ের সেই টাইপের ফ্যান। ফ্যানের স্তর পার হয়ে সে এখন রবিন ভাইয়ের এয়ারকুলার হবার চেষ্টায় আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, রবিন ভাইয়ের অবিবাহিত বউ বিদ্যমান। তার নাম তৃষা। দেখতে একেবারে ডানাকাটা পরী। রবিন ভাইয়ের ধারণা, বাসর রাতে ভাল করে খুঁজলে তার পিঠে ডানা কেটে ফেলার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে। এমন বউ রেখে বিলকিসের দিকে তাকানোর প্রশ্নই ওঠে না।

সুতরাং, রবিন ভাই সাকিবকে বললেন, “সাক্কু, বুঝিসই তো। সিম্পল একটা মামলা। তুই একটু সামলা। এখন থেকে আমার আইডি আমরা দু'জনে চালাব। তুই কুলসুমকে দেখবি। আমি বাকি সব।” শুনে সাকিবের চোখ চকচক করে ওঠে। বাড়িতে অবিবাহিত বউ সাকিবেরও আছে। নাম বিলকিস। সেটা ব্যাপার না। সাকিব ফেসবুকের কিংবদন্তি লুল সালেহ তিয়াসের শিষ্য। সে সালেহ তিয়াসের এমনই হার্ডকোর ফ্যান যে, সালেহ তিয়াসের মত করে নিজের স্ট্যাটাসে নিজেই লাইক দেয়। নিজের স্ট্যাটাসে নিজেই লাইক দেয়া না'কি সালেহ তিয়াসের সাইন। সাকিবও সেটা অনুসরণ করে। তার এমন শিষ্য হয়ে একাধিক রমণীকে সামলাতে না পারা কোন কাজের কথা না। সুতরাং, রবিন ভাইয়ের সাথে সাকিবের ডিল হয়।

প্রেম চলতে থাকে। ঠেলাগাড়ির মত চলতে শুরু করে একসময় সেটা মার্সিডিজ বেনজ হয়ে যায়। তিনশ কিমি স্পিড তুলে চলতে শুরু করে এরোপ্লেনের মত উড়াল দেয়।

কুলসুমকে ভালমত পটানো হয়ে গেলে, সাকিব তাকে নিজের পরিচয় দিয়ে দেয়। বলে সেও রবিন ভাইয়ের মত লেখালেখি করে। কুলসুমও দেখে, রবিন ভাই তাকে পাত্তা দেয় না। তাই তার পেছনে লেগে থেকে লাভ নেই। সাকিবই ভাল। সাথে সাথে কুলসুম সাকিবের কোন লেখা না পড়েই “ওয়াও!”, “হাউ সুইট” বলতে শুরু করে।

সাকিব কুলসুমের সাথে প্রথম এবং নিজের জীবনের সাতশ বত্রিশতম ডেটে যায়। কিন্তু, কুলসুমের জীবনে এটাই প্রথম। সে কিছু ঠিক করতে না পেরে, তার মা'কে নিয়ে আসে। সাকিবের মত পিচ্চি ছেলে দেখে কুলসুমের মা রেগে মেগে মিগ বিমানের ফায়ার হয়ে যান। সাকিব কুলসুম দু'জনকেই দু'টো রাম থাবড়া মারেন। থাবড়া খেয়ে সাকিব ম্যা ম্যা করে কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে চলে যায়। সেই কান্না দেখে কুলসুমের বুক ভেঙ্গে যায়।

সাকিব বাসায় ফিরে স্ট্যাটাস দেয়:

কাঁচা তেঁতুল খাইতে গিয়া খাইলাম আমি চড়
কুলুর মাম্মি তুই অহনি ট্রাকের তলে পড়

কুলসুম সেই স্ট্যাটাসে লাইক দেয়। কমেন্ট করে, “জান্টুশ, আমার সান্টুশ, প্লিজ প্লিজ প্লিজ তুমি রাগ কোরো না। আমার আম্মু এই এত্তগুলা পচা। তুমি চলে যাবার পর আমার চোখের পানিতে আমাজন নদ তৈরি হয়েছে। তুমি ফেসবুকের ব্রেকিং পেইজটা দেখ। শিরোনাম আছে - বাংলাদেশে সৃষ্টি হল বিশ্বের দ্বিতীয় আমাজন নদ। প্লিজ তুমি আমাকে একটা কল দাও। আমি তোমার কলের জন্য ওয়েট করে অপেক্ষা করছি।”

এই কমেন্ট চোখে পড়ে সাকিবের অবিবাহিত বউ বিলকিসের। সাথে সাথে সে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে তেগুনী হয়ে যায়। সে সাকিবকে কল করে বলে, “তুমি... তুমি... তুমি... আর কখনও আমাকে কল করবা না। তুমি থাকো তোমার ওই কুলসুম বানুকে নিয়ে। তুই... তুই... আর একবার আমার সামনে আসছি তো তোকে... তোকে আমি... টুট... টুট... টুট...” বলেই ফোন কেটে দেয়। ফেসবুকেও সাকিবকে ব্লক করে।

সাকিব গিয়ে হামলে লুল সম্রাট সালেহ তিয়াসের কাছে। তিয়াস ভাই তাকে আশ্বস্ত করেন, তিনি সবকিছু সামলাবেন। এদিকে সাকিবও তার বন্ধুকে দিয়ে কুলসুমকে ফোন করে বলে, “সাকিব, বাংলাদেশের সৃষ্টি হওয়া দ্বিতীয় আমাজন নদে ডুবে মারা গেছে।”

সেই খবর শুনে কুলসুমের হৃদয় বিদারী চিৎকারে আকাশ পাতাল প্রকম্পিত হয়। বাংলাদেশে তৃতীয় আমাজন নদের সৃষ্টি হয়।

এদিকে তিয়াস ভাই কাহিনী সামলানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। তিয়াস ভাইয়ের পাক্কা পাঁচ হাজার ফ্রেন্ডের বিশাল ফ্রেন্ড-লিস্ট। এই ফ্রেন্ড-লিস্ট বানাতে গিয়ে তিনি বর্তমানে ত্রিশ দিনের ব্লকে আছেন। কিন্তু, কাজের কথা হচ্ছে বিলকিস তার ফ্রেন্ড-লিস্টে আছে। সে মাঝে মাঝে তিয়াস ভাইয়ের থ্রিলার পড়ে কমেন্ট করে, “দুঃখে চোখে পানি চলে আসল” কিংবা টুইস্ট পড়ে কমেন্ট করে, “কাহিনীর সহজ সরল বর্ণনা ভাল লাগল।” এবার খোদ তিয়াস ভাই গিয়ে বিলকিসের প্রোপিকে কমেন্ট করলেন, “খাসা তেঁতুল।”

সালেহ তিয়াসের মত সেলিব্রেটি তার প্রোপিকে কমেন্ট করেছে দেখে বিলকিসের ভাবে আর মাটিতে পা পড়ে না। সে তিয়াস ভাইকে নক করে। “হাই, হ্যালো। কারেন্ট গেলো।” টাইপ কথা দিয়ে তাদের চ্যাটিং চলতে থাকে।

বিলকিসের মনে হয় তিয়াস ভাই তার কত দিনের চেনা। মনের সব কথা তার সাথে শেয়ার করা যায়। সে তাকে সাকিবের কথা বলে। বলে যে, “সে থাকতে সাকিব অন্য একটা মেয়ের সাথে রিলেশনে জড়িয়েছে।”
তিয়াস ভাই বলেন, “সাকিবকে তো আমি খুব ভাল করেই চিনি। ওর কাজই তো ফেসবুকে সব মেয়েদের সাথে লুলামি করে বেড়ানো। তোমার আগেও সাত-আটশ মেয়ের সাথে ওর রিলেশন ছিল।”
বিলকিস তব্ধিত হয়ে বলে, “কী বলেন ভাইয়া!”
তিয়াস ভাই সাথে সাথে শুধরে নেন, “ইয়ে মানে, সাত আটটা মেয়ের সাথে। তবে খুবই ক্লোজ রিলেশন। তুমি ছোট। তোমাকে এসব না বলাই ভাল।”

বিলকিসের মনে হয় মানুষটা কত ভাল। সাকিবের মত বজ্জাতের সাথে দেখা হবার আগে যদি এর সাথে পরিচয় হত, তাহলে তার আজকে এভাবে কপাল পুড়ত না। অবশ্য তার কপাল সব সময়েই পোড়া। একবার মাছ ভাজতে গিয়ে গরম তেল ছিটকে এসে কপালে লাগল। সেই পোড়া দাগ আজও উঠল না। দিনে দিতে তিয়াস ভাই আর বিলকিসের চ্যাটের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

মাস-খানেক পরে লুলসম্রাট সালেহ তিয়াসের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস চেঞ্জ হয়। সেখানে ভেসে ওঠে - In a relationship with Princes Belkes.

সেটা ভেসে ওঠে সাকিবের ওয়ালে। সাকিব স্ট্যাটাস দেয়:

দুই তেঁতুলের চিপায় পড়ে করলাম আমি ভুল
ফেসবুকের এই নীল আর সাদায় সবাই যে হয় লুল

সেই স্ট্যাটাসে তিয়াস ভাই আর রবিন ভাই দু'জনেই লাইক করে।

মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৩

(১)
-আমি কি তোমার কাছে কিছুদিন থাকতে পারি?
- হ্যাঁ, পারো। বাড়িতো তোমারই। তোমার নামেই আছে কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর পর কেন থাকতে চাইছ সেটা জানার কৌতূহল হচ্ছে।
-কৌতূহলটা আমি চলে যাওয়ার দিন পর্যন্ত দমন করে রাখো। আমি চলে যাওয়ার আগে তোমাকে সব বলে যাব।
-আচ্ছা, ঠিক আছে। যা ভালো বুঝবে করবে। ১৫ বছর আগে তোমাকে বাঁধা দেইনি। এখন তো আরও দেবনা।
-কেন দেবেনা জানতে পারি?"
-ভেবে নাও, ভালোবাসা কমে গেছে।"
বলেই হাঃ হাঃ করে হেসে উঠল সৌরভ।তিথি কিছুই না বলে সৌরভের দিকে তাকিয়ে দেখল... সৌরভ একটু-ও পাল্টায়নি। তার হাসিও পাল্টায়নি শুধু কোথায় যেন কিছু নেই। খেয়াল করে দেখল, সৌরভের চুলে পাক ধরেছে। ১৫ বছর !!! অনেক দীর্ঘ সময় !!!!

(২)
টেবিলে খেতে বসে সৌরভ তিথিকে তার বাংলাদেশে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলো। বাংলাদশে কি কোন কাজে এসেছ? অনেক ভালো একটা চাকরী পেয়েছ শুনেছিলাম। সেটার কাজেই কী এসেছ?না, ঘুরতে এসেছি।ঘুরতে? হঠাৎ?ইচ্ছে হলো। সত্যিই কোন কাজে আসোনি?তোমাকে দেখতে এসেছি। সেটাও তো একটা কাজ, তাই না?সৌরভ অপ্রস্তুত চোখে তিথির চোখ থেকে চোখ নামিয়ে নিল। নিজেকে দুর্বল করে দিতে সে চায়না। 


(৩)
সৌরভ তৈরি হচ্ছিল বাইরে যাবে বলে। হঠাৎ বৃষ্টি এসে গেল। আর সেটা যেন তেন বৃষ্টি না, কঠিন বৃষ্টি। যাকে বলে ঝুম বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে একা ভিজতে ভালো লাগেনা, সাথে কাউকে থাকতে হয়। যে সাথে ভিজবে তারপর হাত ধরে টেনে নিয়ে যেয়ে বলবে, "আর ভিজোনা। ঠাণ্ডা লাগবে। " তারপর এক কাপ ধোয়া ওঠা গরম চা হাতে ধরিয়ে দিয়ে একটা রবীন্দ্র সংগীত গাইবে।সৌরভের জীবনে তিথি এমন একজন হতে পারত কিন্তু হয়নি। সংসার যখন শুরু করেছিল তারা তখন চোখে অনেক স্বপ্ন ছিল,আশা ছিল। একে অপরের বন্ধু হবার প্রত্যয় ছিল।কিন্তু ঠিক কী কারণে তিথি সব ছেড়ে চলে গিয়েছিল সেটা সৌরভ জানেনা। জানার চেষ্টাও করেনি। যে চলে যাবে বলে ঠিক করে তার উপর যুক্তি খাটেনা, ভালোবাসা খাটে কিন্তু সেই ভালোবাসাও যাকে আটকাতে পারেনি তাকে আর নতুন করে কিছু বলার বা বোঝানোর নেই।এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দেখল বারান্দায় একটা মেয়ে ভিজছে। খোলা বারান্দা দিয়ে বৃষ্টির পানি তার শরীরে পড়ছে। সে কেঁপে কেঁপে উঠছে কিন্তু কিছুতেই যেন নিজেকে এখান থেকে সরিয়ে নিতে পারছেনা। সৌরভ দেখল মেয়েটা তিথি। যাকে সে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল আর কোন এক রাতে এভাবেই ওই বারান্দাটায় দাঁড়িয়ে একসাথে বৃষ্টিতে ভিজেছিল। আর আজ যাকে ডাকার ক্ষমতা তার নেই।সৌরভের হঠাৎ মনে হলো তিথি মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেল।

(৪)
জ্বরের ঘোরে অচেতন তিথি। মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে সৌরভ আর মনে মনে নিজেকে দোষ-ও দিচ্ছে। কেন যে তিথিকে আটকালো না সে। অবশ্য না আটকানোর কারণটাও খুব স্পষ্ট।আজ আর সৌরভ তিথির কেউ না । যদিও তাদের ডিভোর্স হয়নি কিন্তু মনের বিচ্ছেদ অনেক আগেই হয়েছে। সময় তাদের আলাদা করেছে। আবার সময়-ই তাদের আজ এই পরিস্থিতির সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।সৌরভের হঠাৎ মনে হলো সত্যিই কি সে তিথির কেউ না? যদি তাই হবে তাহলে কেন সে নতুন করে তার জীবনটা শুরু করতে পারেনি? কেন সবকিছু ভুলে যেতে পারেনি? কেন একটা অপেক্ষা তার মনকে প্রতিটা সময় আশ্রয় দিয়েছে? তারমানে কী সে এখনো তিথিকে আগের মতই ভালোবাসে? ১৫ বছরের ব্যবধান তার ভালোবাসার পরিমান একটুও কমাতে পারেনি? কিন্তু কী দাম আছে এই ভালোবাসার? কে মূল্য দিয়েছে তার ইচ্ছা আর প্রতীক্ষার? তিথি ফিরে এসেছে কিন্তু তার কাছে নয়। অন্য কোন উদ্দেশ্য নিয়ে। আর তার কাছে ফিরে আসলেও কী সে আগের মত করে তাকে মেনে নিতে পারবে? নিজের মত করে ভালোবেসে যাওয়া যায়, কারণ মন কোন যুক্তি ছাড়াই ১৫ বছর সময়টাকে ভুলিয়ে দেয় কিন্তু একসাথে থাকার ক্ষেত্রে ১৫ বছরের ব্যবধানটা অনেক বড়। কোন যুক্তিই এই ব্যবধানকে কমিয়ে দিতে পারবেনা।

(৫)
এক সপ্তাহ জ্বরে ভোগার পর তিথি সুস্থ হলো। তারপর আবার ব্যস্ত হয়ে গেল কোন একটা বিষয় নিয়ে। সৌরভ প্রথম দিন থেকেই দেখছে ব্যাপারটা কিন্তু জিজ্ঞেস করেনি কিছুই। জিজ্ঞেস করলেই উত্তর পাওয়া যাবে তাও নয়। তিথি নিজে থেকে কিছু না বললে তাকে কিছু বলানো যায়না।আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই সৌরভ একটা ছোট চিরকুট পেল। তাতে একটা ঠিকানা দেয়া এবং ঠিকানা অনুযায়ী বিকেল চারটায় সেখানে যেতে বলেছে তিথি। খুব জরুরী ব্যাপার, সেটাও বলেছে। সৌরভ অফিসে যেয়ে তাই খুব দ্রুত কাজ শেষ করতে লাগল। তবে একটা কথা তার বারবারই মনে হলো যে কী এমন ব্যাপার যে তিথি মুখে বলল না, চিরকুট লিখতে হলো? কাল রাতে চা খাওয়ার সময় ও তো বলা যেত।এসব ভাবতে ভাবতে সে তিথির দেয়া ঠিকানায় রওনা হলো।সবকিছু যেন তৈরি-ই ছিল। সবাই যেন তার আসার অপেক্ষাতেই ছিল। এক বুড়োমত ভদ্রলোক তার দিকে এগিয়ে এল।তাকে একটা চেয়ারে বসতে বলল। সৌরভ বসতেই লোকটি একটা কাগজ হাতে ধরিয়ে বলল, এখানে সিগনেচার করুন, ম্যাডাম বলে গেছেন। সৌরভ কাগজটি হাতে নিয়ে দেখল সেটা ডিভোর্সের কাগজ এবং সেখানে তিথির সিগনেচার-ও আছে। সৌরভ খুব অবাক হলো এটা ভেবে যে, এত বছর পর ফিরে এসে তিথি এই নাটকটা কেন করল? সে তো কখনো তিথিকে আটকে রাখতে চাইনি। সে তার মত করে তিথিকে ভালোবেসেছে এতদিন। তিথি কাছে না থাকলেও সে জেনেছে এই পৃথিবীতে একজন মানুষ আছে যে শুধুই তার। যাকে অধিকার করেছিল সে ভালোবাসা দিয়ে। আজ সে সেই স্মৃতিটুকুও আর ধরে রাখতে চায়না। সৌরভ কিছু না বলে সিগনেচার করে উঠে দাঁড়াল। তখন লোকটি তাকে একটা চিঠি দিয়ে বলল, " ম্যাডাম দিয়ে গেছেন।"

(৬)
একটা রেললাইনের পাশে বসে সৌরভ চিঠিটা খুলল। তিথির হাতের লেখায় ভালোবাসার স্পর্শ যেন সে অনুভব করল। সৌরভ,
তুমি জানতে চেয়েছিলে আমি বাংলাদেশে কেন এসেছি। আমি জানি তুমি তোমার উত্তর পেয়ে গেছ কিন্তু ভাবছ এত নাটকীয়তার
প্রয়োজন কী ছিল। নাটক তো জীবনেরই অংশ সৌরভ। মানুষ নাটকের আশ্রয় নেয় নতুন নাটক তৈরি করতে। আমি শুধু আমার
জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে একটা সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দেব বলে নাটকটা করলাম। তোমার নিশ্চয়ই মনে অনেক প্রশ্ন আসছে? আমি আজ তোমাকে সব বলব সৌরভ। সব বলব বলেই এই চিঠি।তোমার মনে পড়ে তুমি আমাকে কী বলতে? তোমার খুব ইচ্ছা আমাকে 'মা' হলে কেমন লাগে সেটা দেখবে। আমি যখন আমার সন্তানদের পড়াবো তখন আমাকে রাগী লাগে নাকী সেটা দেখবে। তোমার এই সুন্দর সুন্দর চিন্তা গুলো কবে যে আমারো স্বপ্ন হয়ে উঠেছিলো আমি জানিনা। আমি মনে মনে প্রতিদিন তোমার সন্তানের মা হয়ে উঠছিলাম ঠিক তুমি যেভাবে আমাকে ভাবতে। কিন্তু একদিন জানতে পারলাম 'মা' শব্দটা আমার জন্য নয়। আমি কখনো 'মা' হতে পারবোনা। কোন চিকিৎসা আমাকে তোমার স্বপ্ন পূরণ করাতে পারবেনা। আমি চাইনি তুমি কষ্ট পাও । তোমাকে কষ্ট পেতে দেখলে নিজের অপারগতার জন্য আমিও কষ্ট পেতাম তাই তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। আমি জানতাম আমি সামনে থাকলে তুমি কখনো নতুন করে কিছু করার কথা ভাবতেও পারবেনা। ভেবেছিলাম আমি চলে গেলে সবার চাপে, দায় এড়াতে তুমি নতুন করে জীবনটা শুরু করতে পারবে। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম। গত ১৫ টা বছরের প্রত্যেকটা হিসেব আমার কাছে আছে। তুমি কীভাবে আমার অপেক্ষা করে চলছিলে আমি জানি। আমার খুব ভালো লাগত ভাবতে যে একটা মানুষ আমাকে পাগলের মত ভালোবাসে তাই আজও সে আমার অপেক্ষায় একা। তাই সম্পর্কটা পুরোপুরি শেষ করে দিতে পারিনি। এই পৃথিবীর একটা কঠিন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই নির্লোভ ভালোবাসা আমাকে লোভী করে তুলেছিল তাই সম্পর্কটার শেষ সুতোটা ইচ্ছে করেই আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু বিধাতা চাননা সেই সুতোটা আমার হাতে থাকুক তাই তিনি এই পৃথিবীতে আমার বেঁচে থাকার শেষ সুতোটা তাঁর মত করে টেনে ধরেছেন। আমি আর খুব বেশীদিন তোমাদের সাথে থাকব না। তাই দায়িত্ব নিয়ে সম্পর্কটা পুরোপুরি শেষ করলাম। আজ আমি গ্লানি মুক্ত। তোমার জীবনটা আমি নষ্ট করেছি। আজ যে সিদ্ধান্তটা নিলাম সেটা অদি ১৫ বছর আগেও নিতে পারতাম তাহলে হয়তো তুমি আজ তোমার স্বপ্নটা সত্যি দেখতে পেতে। একটা সুন্দর জীবন, একটা সুন্দর পরিবার, একটা সুন্দর শিশুর বাবা হতে পারতে। আমি তোমাকে অধিকার করে রাখার লোভ সংবরণ করতে পারিনি তাই আজ আমরা কেউই সুখী নই। আমি অপরাধী। আমাকে ক্ষমা করো। আমি তোমার স্বপ্নকে ধ্বংস করেছি, তোমার জীবনকে এই পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছি। জীবনের শেষ কিছু সময় তোমার সাথে কাটিয়ে আমি আরো লোভী হয়ে যাচ্ছিলাম। তোমাকে হারাতে ইচ্ছে করছিল না একদমই। তাই সবকিছু শেষ করে দিয়ে নিজেও শেষ পথের যাত্রীদের সাথে মিশে যাচ্ছি । তোমার অপেক্ষা শেষ সৌরভ। তুমি ভালো থেকো।তিথি চিঠিটা হাতে নিয়ে সৌরভ চুপচাপ বসে থাকল। তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসলো। সে যেন দেখতে পেল সে আর তিথি রেললাইনের ধারে পাশাপাশি বসে আছে। কেউ কোন কথা বলছেনা কিন্তু দুজনেরই চোখ ছলছল করছে। নিয়তির কাছে হারার কষ্ট তারা প্রানপণে চেপে রাখা চেষ্টা করছে। যে প্রকৃতি তাদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেছে তাকে তারা তাদের দুঃখ টাও দেখাতে চায়না।


লিখেছেনঃ Ramisa Anjum Rusmi

কমা অথবা দাড়ির গল্প

কমা অথবা দাড়ির গল্প
লিখেছেনঃ-শেষ রাতের আঁধার

- না সম্পর্কে আর কোন কমা, সেমিকোলন না। একেবারে দাড়ি।
- আর একবার কমা দাও। এইবার তুমি যতদিন চাও কমা থাকবে। আমি এর মাঝে তোমাকে জ্বালাবো না।
- জ্বালানো নিভানো জানি না। তোমার সাথে আমার আর সম্পর্ক রাখা চলে না।
-আরে।,আর একবারই তো।
- না বলছি। না।

এভাবে আরও কয়েকবার দাড়ি দিতে গিয়ে কমা হয়ে গেছে ইমামার। এবার আর না। আর কোনভাবেই ইমামা সম্পর্ক রাখবে না সাব্বিরের সাথে।অনেক হেয়ালিপানা সহ্য করেছে। আর না। কাল রাতেও সাব্বির ফেসবুকে গিয়েছে, নিশ্চয়ই মেয়েদের সাথে লুকিয়ে লুকিয়ে চ্যাট করেছে। এতবার করে মানা করার পরও।

- তুমি কাল রাতেও ফেসবুকে গিয়েছিলে?
- মানে? কে বলল তোমাকে?
- আমাকে কে বলল ওটা তোমার জানতে হবে না। গিয়েছিলে কিনা বল?
- না তো।
- আবার মিথ্যা বল। কেন গেছিলা বল?
- যাই নায় তো।
- রাগ উঠাবা না। তুমি না গেলে তোমার ভুতে স্ট্যাটাস দিছে? "আজ আমার মন খারাপ।"
এক থাপ্পড় দিব বেয়াদব।মেয়েলি স্ট্যাটাস। এইসব দিয়ে তুমি কি বুঝাতে চাও? তোমার গার্লফ্রেন্ড তোমারে ছ্যাকা দিছে, সেই দুঃখে তোমার মন খারাপ। এখন দল বেধে মেয়েরা আসবে সান্ত্বনা দিতে, প্রেম করতে, তাই তো? দেখলাম এক মেয়েও কমেন্ট করছে," গার্লফ্রেন্ড সমস্যা?" ঐ মেয়ে জানে কি করে? ঐ মেয়েকে কি বলছ তুমি আমার ব্যাপারে?
- না ঐ মেয়েকে তো আমি তোমার ব্যাপারে কিছু বলি নায়।
- তাহলে কি বলছ? তুমি সিঙ্গেল? জীবনে কোন মেয়ের দিকে তাকাও নি। প্রেম করনি, তাই তো?
- না না। ঐ মেয়ের সাথে আমার কোনদিন কথাই হয় নি।
- তাই না? কোন কোন মেয়ের সাথে চ্যাট করছ বল?
- কারও সাথে না। সত্যি।
- তাহলে গেছিলা কেন?
- সরি।
- সরি মানে? এইটা কি অভ্যাস? আমার সাথে যেদিন ঝগড়া হয়,ঝগড়া হওয়ার সাথে সাথে তুমি ফেসবুকে দৌড় দাও। কে আছে ওখানে? আমার প্রক্সি আছে?
- ছিঃ ছিঃ।এগুলো কি বল তুমি? আর যাব না। বিশ্বাস কর। এইবারের মত কমা দাও।
- তোমাকে আমি কতদিন বলছি তুমি আর ফেসবুক চালাবে না। তারপরও তুমি!! আমি তো চালাই না। তোমার কেন এত শখ?
- আচ্ছা তোমার সামনে এই accout deactivate করছি। আর কখনও যাব না।

ইমামা আর সম্পর্কে কমা দিবে না।এর আগেও কয়েকবার ব্যাপারটা ঘটেছে। রাগারাগি করে চলে গেছে । প্রতিবারই ফিরে এসেছে। রাগ করে চলে যাবার পরই, কলের পর কল করে যাবে সাব্বির। ধরবে না জেনেও। এরপরই ফাজিলটা একটা ফাজিল মার্কা কথাসহ এস এম এস দিবে।যার নমুনা থাকবে এমন,
"আর কখনও জ্বালাবো না তোমাকে, আর তোমাকে কল দিব না। থাকো সুখে থাকো, আর জ্বালাতে আসব না। আমি কার কে?আমার কিছু হলে কার কি?"
সবসময় এই ধরনের একটা মেসেজ দিয়ে আর কোন খোঁজ খবর থাকবে না। ইমোশনাল ব্লাকমেইল। ফাজিল একটা। অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়ে হাওয়া। ইমামাই পরে কল করে খোঁজ নিবে। শেষ বার খুব খারাপ একটা কাজ করেছে সাব্বির।বড়সড় মাপের ঝগড়া।গতানুগতিক ইমোশনাল ব্লাকমেইল মেসেজে কাজ হচ্ছিল না। ইমামার অভিমান শক্তিশালী। ভাঙ্গা সম্ভব না এবার। হঠাৎ সেদিন ইমামার নাম্বারে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে মেসেজ আসল," আপনার বয়ফ্রেন্ড তো accident করছে।অবস্থা খুব খারাপ।"
মেসেজ দেখে ইমামার বুকের ভিতর ঘ্যাচ করে কি যেন বিঁধল। তারাতারি সাব্বিরকে কল করল। নাম্বার বন্ধ। অনেকক্ষণ ধরে কল করল । তাও বন্ধ। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ ইমামা সে মুহূর্তে। বুকের ভিতরের কষ্ট সারা শরীর বেয়ে চোখের দিকে যাচ্ছিল। চোখে অসহ্য কষ্টে পানি গাল বেয়ে পরা শুরু করে দিয়েছিল। সেই মুহূর্তে কল ঢুকল। সাব্বির মোবাইল ধরার পর ইমামা কাঁদো কাঁদো গলায় বলল- কই তুমি?
- এইতো রাস্তায় দাঁড়িয়ে আলুর চপ খাই।তোমার কি হইছে কাঁদো কেন?
- কিছু না। তুমি এখন আসো আমাদের এখানে। আমি তোমার সাথে দেখা করব।
- আচ্ছা।

এরপর দেখা, সব ঠিক। ইমামা ভাল করে জানে,অপরিচিত নাম্বার থেকে মেসেজটাও সাব্বির দিয়েছিল।নাম্বার পরে বন্ধ করে রেখেছে।টেনশনে রাখার জন্য।কিন্তু এই কথা ও কখনই স্বীকার করবে না। মুখ চোখ এমন অসহায় করে কথা বলবে, যেন মনে হবে একটা বাচ্চা কথা বলছে। সে কোন অপরাধই করতে পারে না।

ইমামা এবার অমন আলতু ফালতু মেসেজেও ভুলবে না।
তাই কড়া করে বলে দিল- তুমি যাও, ফেসবুকই চালাও। থাকো তোমার ফেসবুক বান্ধবী নিয়ে।আমার সাথে থাকার কোন দরকার নেই। অত মেয়ে ওখানে। আমি অনুমুতি দিয়ে দিচ্ছি। আর ঝগড়া হলে লুকিয়ে ফেসবুক চালাতে হবে না। দেখিয়ে দেখিয়ে চালাবা। এখনি একটা স্ট্যাটাস দাও, "আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে ছ্যাকা দিয়ে পুড়ে ফেলছে। "তোমার সাথে আর আমার চলে না।

ইমামা পাশ থেকে উঠে গেল। সাব্বিরের দেয়া দুটি গোলাপ হাতে নিয়ে। সম্পর্কে দাড়ি টেনে যাচ্ছে, তাও ফুলগুলো ফেলে দিচ্ছে না। ভালবেসে প্রতিবারই সাব্বির দুটি করে গোলাপ দেয়। বেশিও না ,কমও না। সব পছন্দ জঘন্য হলেও গোলাপ দুটি সবসময় অনেক সুন্দর হয়। প্রতিটা মানুষের ভিতর সুন্দর কিছু থাকে। তার টানেই কারও না কারও তার প্রতি আজন্ম মায়া জন্মে যায়। মায়া কাটানো খুব কঠিন। ভালবাসার মায়া। বাহির থেকে দেখে যাকে মনে হয়, একে ভালবাসার কি আছে? তার প্রতিই কেউ না কেউ এমন কিছু সুন্দরের মায়ায় বেধে আছে।যে মায়া কাটানো যায় না।
ইমামা চলে যাচ্ছে। সাব্বির ছোট্ট একটা মেসেজ করল," খুব কান্না পাচ্ছে। যেও না। আমি তোমাকে ভালবাসি। আর ভুল হবে না।"
ইমামা মুখ ফিরে তাকাল। সাব্বির মুখ নিচু করে বসে আছে । ইমামা হয়ত সম্পর্কে দাড়ি টেনে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে যাবে। নয়ত কান্নার মায়ায় অথবা ২ টা সুন্দর গোলাপ ফুলের ভালবাসায় সম্পর্কে কমা দিয়ে ফিরে আসবে।

সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৩

খুনী

খুনী
লিখেছেনঃ akjn ami

সকাল থেকে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে । আমি বসে আছি আমার রুমের জানালার ধারে ।আমি বৃষ্টি দেখছি।এই কয়দিনের প্রচন্ড গরম এক পশলা বৃষ্টিতে শান্ত ।খুব ভিজতে ইচ্ছা করছে ।কিন্তু এ দুপুরে ছাদে গিয়ে ভেজা অসম্ভব ।শত চক্ষু গিলে খাবে ।পুরুষদের চেয়ে বেহায়া দুনিয়াতে আর কেউ আছে বলে আমার জানা নেই । সারাক্ষণ খালি ছোক ছোক করে ।বাসে উঠলে অদৃশ্য ধাক্কায় মেয়েদের গায়ে হামলে পড়ে,রাস্তায় বেরোলে চোখ দিয়ে সারা শরীর চাটে । ব্যাতিক্রম একমাত্র আকাশ ।আকাশের মনটা আকাশের মত্ই বিশাল ।আকাশের বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে মরতেও আমার ভয় নেই । জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলাম বৃষ্টি ছোঁব বলে ।ঠিক ছুঁতে পেলাম না।আকাশকে খুব মনে পড়ছে । ও এখন সিলেটে অফিসের কাজে । কি মনে করে হঠাত্ ওর রুমে গেলাম । ঠিক আগের মতোই আছে রুমটা ।ঠিক আগের মতোই অগোছালো ।জুতা জোড়া পড়ে আছে ঠিক দরজার সামনে । অগোছালো স্বভাবের এই ছেলেটা ঘর দোর সব এলোমেলো করে রাখত । আর বলত ,মায়া, এলোমেলো থাকার মধ্যেই জীবনের সৌন্দর্য ।আমি ইচ্ছে করে রুমটা গুছাই না ।অগোছালো থাকলে মনে হয় ও বুঝি আমার খুব কাছেই আছে ।
আগে ভীষণ অভিমান হতো ওর উপর । এতো পাগল কেন ও ? আর দশটা মানুষের মতো কেন নয় ?কেন এতো ভালোবাসে আমাকে ? মা বাবা মারা যাওয়ার পর ওদের বাসাতেই বেড়ে উঠেছি । পড়ালেখা শিখেছি এখন চাকরিও করছি । ও সব সময় আমার পাশে ছিল । আমাকে কখনো পর ভাবেনি । বাবা মার অমতে আমাকে বিয়ে করেছে ।
আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর ঠিক আগের দিন আমার অফিসিয়াল কাজে চট্রগ্রাম যেতে হলো ।পুরোটা দিন চলে গেলেও ও কোন ফোন দেয়নি । চিটাগাং আমাকে থাকতে দেয়া হয়েছে এক ডাক বাংলোতে । বারোটা বাজার ঠিক ১০ মিনিট আগে দরজাটা কেউ ভীষণ জোরে ধাক্কা দিচ্ছিল ।আমি একটু ভয় পেলাম ।কী হোলে চোখ রেখে দেখি আকাশ । তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দেখি এক গাদা গিফট হাতে পাগলাটা দাঁড়ায়ে আছে ।

আমার নাম ঈশিতা ।
শোভনের সাথে আমার দেখা হয়েছিল একটা লোকাল বাসে ।কবি কবি চেহারার এ ছেলেটা দুই টাকার জন্য ঝগড়া করছিল কন্ডাক্টরের সাথে ।আমি যাচ্ছিলাম একটা আর্ট গ্যালারীতে । আমার এক বান্ধবীর সাথে ওখানে দেখা হবে ।গিয়ে দেখি বান্ধবী এখনো আসে নাই । ছবিগুলো দেখতে দেখতে একটা ছবিতে চোখ আটকে গেল । আমার ছবি !!! নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ।অবাক চোখে অপলক তাকিয়ে আছি । পেছন থেকে একটা ভয়েস ভেসে এলো । ঘুরে দেখি বাসের সেই ছেলেটা ।কোকড়া চুল ঢুলু ঢুলু চোখের ছেলেটাই একেঁছে ছবিটা। জানাল আমাদের পাশের বাড়িতে থাকে ওরা । ছাদে দাঁড়িয়ে থাকত আমায় দেখব বলে । কিছুটা বাস্তবতা আর কিছুটা কল্পনায় তৈরি আমার ছবিটা ।
ওকে আমার খুব ভালো লেগেছিল ।একা একা বাসায় থাকি । একাকি জীবন আমার । ঠিক একা আমি তা বলা যাবে না । আমার একটা দুঃস্বপ্ন আছে । আমার নিত্য সঙ্গী । প্রতি রাতে চোখ বন্ধ করলেই দেখি দুটো হাত আমাকে ঝাপটে ধরেছে ।চারিদিকে শুধু অন্ধকার । আমি চিত্কার করছি ।
শোভনের সাথে বিয়েটা হয়েছিল কাজী অফিসে । বনানীতে নতুন ফ্ল্যাট নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলাম ।দুঃস্বপ্নটা এখনো আছে তবে তাকে নিয়েই বাঁচতে শিখেছি ।

আমার নাম জারা ।পুরান ঢাকার একটা ছোট ভাড়া বাসায় আমি থাকি। আমি একটা অফিসের রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করি ।ছোটবেলায় বাবা মা হারিয়ে আমি একা হয়ে যাই । দূর সম্পর্কের এক মামার বাসায় মানুষ হয়েছি । মামা ছিল একটা জাত পিশাচ । চৌদ্ধ বছর বয়স থেকেই আমাকে জোর করে তার শয্যা সঙ্গী বানিয়েছিল ।তার লালসার শিকার বানিয়েছিল । প্রতি রাতে তাদের রান্না ঘরে পাশবিক অত্যাচারের শিকার হতাম ।কোন এক দুপুরে ফাঁকা বাসায় আবার ধর্ষিত হলাম । এবার মামার বড় ছেলের হাতে ।আমার চোখে এরপর থেকে সব পুরুষ ই লোভী ।ওদের কত হাতে পায়ে ধরেছি , কত বাপ ডেকেছি তাও ছাড়ে নি আমাকে ।ওরা ওদের কামনার আগুনে দগ্ধ করত আমায় । মামী বুঝে ও না বোঝার ভান করত ।স্বামী আর সন্তানের রাগ ঝাড়ত আমার উপর ।এমন কোন দিন আমার জীবনে আসেনি যেদিন মামীর হাতের মার খাইনি ।আমার হাতে পায়ে অসংখ্য পোড়া দাগ ।মামীর দেয়া গরম ছেঁকার চিহ্ন।কতবার মরতে চেয়েছি , সাহসের অভাবে পারিনি ।ঠিক করলাম মরার আগে ওদের ও মারব । প্রতিশোধ নিবো । ওই বাসায় থেকেই আমি বি এস সি পাশ করেছি ।মাস ছয়েক আগে মামার ভাতের সাথে মিশিয়ে দিলাম অল্প আর্সেনিক । মামার বড় ছেলে আকাশের ব্যবস্হা পরে করার সিদ্ধান্ত নিলাম ।ওই রাতেই মামার কিচ্ছা খতম ।কিছুদিন পর আমি একটা চাকরি পেয়ে যাই ।একদিন কড়াইয়ে তেল গরম করলাম ।মামী তেলাপোকা ভয় পায় ।মামীকে রান্না ঘরে পাঠিয়ে এক গাদা তেলাপোকা ছেড়ে দিলাম রান্না ঘরে ।কিছুক্ষণ পর একটা ভয়ংকর চিত্কার শুনে রান্নাঘরে গিয়ে দেখি তেল পড়ে পুড়ে গেছে মামীর শরীরের প্রায় অর্ধেকটা ।
মাস দুয়েক আগে অল্প ভাড়ায় পুরান ঢাকায় এই বাসাটা পেলাম।কয়েকদিন থাকতেই টের পেলাম একটা কবি কবি চেহারার ছেলে প্রায় ই বাসার সামনে ঘোরাঘুরি করে । একদিন সন্ধ্যায় কারেন্ট ছিল না ।মোমবাতি খুঁজছিলাম অন্ধকারে ।হঠাত্ করে ঝাপটে ধরে দুটা হাত ।ধস্তাধস্তি করেও নিজেকে ছাড়াতে পারলাম না । ততক্ষণে নিজের ভেতর আরেকটি শরীরের অস্তিত্ব ভীষণভাবে টের পাই । কারেন্ট এলে চিনতে পারি ছেলেটাকে ।কোকড়া চুল আর ঢুলু ঢুলু চোখ।পরে জেনেছিলাম ওর নাম শোভন ।
আকাশ আর শোভনকে খুন করার পরিকল্পনা করি আমি ।ঠান্ডা মাথায় খুন ।তারপর পুলিশে ধরা দিবো ।

একরাতেই খুন হলো শোভন ও আকাশ। বনানীতে নিজের বাসায় খুন হলো শোভন ।উত্তরায় আকাশ।খুনের প্যাটার্ন ও একরকম ।ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে পুরুষাঙ্গ ।তারপর কেটে দেয়া হয়েছে হাত ও পায়ের বড় আর্টারিগুলো ।অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে দুজন ই।
খুনী মেয়েটা ধরা পড়েছে । পাশে পড়ে থাকা ব্লেডে ফিঙ্গারপ্রিন্টও মিলে গেছে ।মেয়েটার নাম মায়া ।একটা অফিসের রিসেপশনিস্ট । ।মেয়েটার মাথায় মে বি প্রবলেম । তার দাবী সে শোভনকে কখনো দেখেনি ।আর আকাশকে সে ভালোবাসে ।আবার ঘন্টাখানেক পরে দাবী করে তার নাম ঈশিতা । শোভন তার স্বামী।আবার কখনো দাবী করে তার নাম জারা । সে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে ওদের ।প্রতিশোধ নিয়েছে তার নারীত্বের অপমানের ।ডাক্তারদের ধারণা মেয়েটি মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিজিজে ভুগছে ।